নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে হামের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং শতভাগ শিশুর অংশগ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ৬ মাস থেকে পাঁচ বছর (৫৯ মাস) বয়সী সব শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এ কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গলিতে গলিতে প্রচারণা চালাতে হবে; যাতে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই অংশ নেয়। গতকাল রোববার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত হাম টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এ কর্মসূচিকে সফল করতে হবে।
বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনÑএই দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও ছয়জন এ রোগে মারা গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ২৬৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগী পাওয়া গেছে ১৫০ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা মোট ২ হাজার ৬৩৯ জন এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৫৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল
বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হামের প্রাদুর্ভাব রোধে রাজনীতিবিদদের ঘরে ঘরে গিয়ে টিকার তথ্য জানানোর আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করুন। এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিন।
আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম প্রতিরোধের বৃহৎ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাম যেমন দ্রুত ছড়ায়, টিকার মাধ্যমে তেমনি একে দ্রুত নির্মূল করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যদি অধিকাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারি। তবে এ প্রাদুর্ভাব এখনই থামানো সম্ভব হবে।
দেশের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এম এ মুহিত বলেন, শুধু নিজের বাচ্চা টিকা নিল কি নাÑতাতেই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীর সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করা গেলেই এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ১০০ জনে অন্তত ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে হাম আক্রান্ত পথশিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইসিইউ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত গতকাল রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম অডিটোরিয়ামে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আইসিইউ সেবার উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, পথশিশুদের জন্য বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিজেলস (হাম) আইসিইউ উদ্বোধনের মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য জরুরি নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার একটি মানবিক ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সূচনা করা হলো। এ উদ্যোগ শুধু আর্তমানবতার সেবায় স্থাপিত একটি দৃষ্টান্ত নয়, এটি হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপ’ চিকিৎসার সূচনা।
শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং সভাপতিত্ব করেন ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান। এ সময় ডা. মজিব স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নিকট পথশিশুদের জন্য চালু হওয়া বিনামূল্যের মিজেলস (হাম) আইসিইউ সেবাকে আরও কার্যকর করতে সরকারের পক্ষ থেকে তিনটি আইসিইউ ভেন্টিলেটর মেশিন স্থাপনের অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সচেতনতা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ‘পথ নবজাতকেরা আপনজন, হবে না কোনো বিভাজন’Ñএই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সমাজে সহমর্মিতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post