প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আরবিএমের সেমিনার: জনশক্তি খাতের ডেটাবেজ তৈরি জরুরি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দালালদের দৌরাত্ম্যসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। অন্যান্য দেশে এক মাসের কম সময়ে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানো গেলেও বাংলাদেশে কোনো বিদেশগামী শ্রমিকের কাগজপত্র প্রস্তুত করতে আড়াই মাস সময় লেগে যায়। এসব ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে ডেটাবেজের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার। একইভাবে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। গতকাল রোববার রাজধানীর প্রবাসীকল্যাণ ভবনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রবাসীদের বিষয়াবলি নিয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশ মাইগ্র্যান্ট (আরবিএম) এ সেমিনার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে মালয়েশিয়া সরকারই সিন্ডিকেট তৈরি করছে, আমরা করিনি। মালয়েশিয়া সরকার যার সঙ্গে ব্যবসা করতে বলে আমাদের তার সঙ্গেই করতে হয়। অন্যথায় যেটুকু পাঠানো যাচ্ছে তাও বন্ধ করে দেবে। তবে বাংলাদেশ থেকে যারা লোক পাঠায় তারাও সবাই ভালো নয়। তাদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। দুর্গন্ধযুক্ত লোক বাদ দিয়ে সুগন্ধযুক্ত লোক এ লাইনে আনতে হবে। তবেই এ খাতের উন্নতি হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জাবেদ আহমেদ, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সিআর আবরার, জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সহসভাপতি মো. আবদুল হাই, বায়রার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজুল ইসলাম ও আলী হায়দার চৌধুরী, আরবিএমের সভাপতি ফিরোজ মান্না ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, বাংলাদেশে মাইগ্রেশন ব্যয় সবচেয়ে বেশি। এটা কমানোর চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। বাজার যাচাই করে বিদেশে লোক পাঠানোর বিষয়ে মনোযোগী হওয়া দরকার। রামরুর নির্বাহী পরিচালক সিআর আবরার বলেন, বায়রার কাজ সম্পর্কেও স্বচ্ছতা দরকার। এ নিয়ে আইন হলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে তিনি মত দেন। এছাড়া অনিয়মিত অভিবাসন রোধ করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। দালালদের দৌরাত্ম্য সম্পর্কে তিনি বলেন, দালাল একটা বাস্তবতা। তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে ডেটাবেজ সিস্টেম চালু করে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। শ্রমিকদের সমস্যার জন্য সবসময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দায়ী না করে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের পরামর্শও দেন তিনি।

বায়রার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার চৌধুরী আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বিলম্বের জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে ১৫ দিনে, শ্রীলঙ্কায় ২০ ও নেপালে মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে লোক পাঠানো হয়। আর বাংলাদেশে লাগে আড়াই মাস। এটা সহজ-সরল করা জরুরি।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, শ্রমবাজারের সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য কূটনৈতিক মিশনগুলোর বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। এজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে সেমিনারে মত দেওয়া হয়। বায়রার সহসভাপতি মো. আবদুল হাই বলেন, নারীদের বিনা খরচে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। একই সুযোগ পুরুষদেরও দেওয়া উচিত। শিগগিরই এমন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব বলে তিনি অভিমত দেন। বায়রার অপর প্রতিনিধি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দূতাবাসের কর্মপরিধি বাড়ানো দরকার। তাহলেই ১৪ থেকে ২০ বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।