বিশ্ব সংবাদ

আরব অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের সবুজ জ্বালানি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো। বিকল্প অর্থনীতি হিসেবে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এবার আরব দেশগুলো পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোনিবেশ করছে। এরই মধ্যে ২০৫০ সাল নাগাদ ২০০ বিলিয়ন ডলারের সবুজ অর্থনীতির  মহাপরিকল্পনা করেছে আরব অর্থনীতির দেশগুলো। খবর: আরব নিউজ।

পরিকল্পনা অনুয়ায়ী, শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে ২০০ বিলিয়ন ডলারের ‘গ্রিন হাইড্রোজেন ইন্ডাস্ট্রি’ তৈরি করবে। যেখানে সৃষ্টি হবে এক মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান। আর দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন হবে ১০০০ গিগাওয়াট ও ৫০০ গিগাওয়াটের ইলেক্ট্রোলাইজার ক্ষমতাসম্পন্ন ১০০ মিলিয়ন মেগাটন হাইড্রোজেন চালিত বিদ্যুৎ।

এদিকে আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আরও একটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে মিসরের বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ সাকের বলেছেন, তার দেশ চার বিলিয়ন ডলারের নতুন নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

এগিকে, গত মাসে ওমান বিশ্বের সব চাইতে বড় ‘গ্রিন হাইড্রোজেন প্লান্ট’ নির্মাণের ঘোষণা দেয়। যেখানে ২৭ বছর মেয়াদি ২৫ গিগাওয়াট সোলার এবং বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

আর গত মে মাসেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাই এ অঞ্চলের প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলে ‘সোলার পাওয়ার গ্রিন হাইড্রোজেন প্লান্ট’ চালু করেছে, যা বাস্তবায়ন করবে সিমন্স এনার্জি, দুবাই ইলেক্ট্রিসিটি এবং ওয়াটার কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ওই প্লান্ট থেকে দুবাই চার লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন সবুজ অ্যামোনিয়া উৎপাদন করবে। যেখানে বিনিয়োগ করা হবে এক বিলিয়ন ডলার।

এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে সৌদি আরব ওই সময়ের সবচেয়ে বড় ‘চার গিগাওয়াট বায়ু এবং সোলার’ প্লান্ট নির্মাণ করে। যেখানে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে পাঁচ বিলিয়ন ব্যয় করে। যেখান থেকে দৈনিক ৬৫০ টন সজুব জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যা মোট ২০ হাজার হাইগ্রো-ফুয়েল বাসের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহƒত হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক জ্বালানিবিষয়ক সংস্থা উড ম্যাকেনজির জ্যৈষ্ঠ গবেষক ফ্লোরা লুইসিয়া ক্লুজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যৌথভাবে সবুজ বিদ্যুতায়নের মহাপ্রকল্প ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয়ান এবং এশিয়ান বাজার ধরতে মধ্যপ্রাচ্যে কি-প্লেয়ার হিসেবে ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ প্লান্টে নিজেদের জানান দিচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে প্রচুর বায়ু এবং সুর্যালোক কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্য দাবি করতে পারে। 

উড ম্যাকেনজির তথ্যমতে, শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলই নয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যসহ ১৭টি দেশ ইতোমধ্যে গ্রিন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ‘হাইড্রোজেন রোডম্যাপ’, কৌশল অথবা ভিশন ঘোষণা করেছে।

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৫০ বিলিয়ন ইউরোর (১৭৮ বিলিয়ন ডলার) ‘গ্রিন রিকভারি প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছে। যেখানে প্রথম পর্যায়ে সবুজ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ছয় গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

এ বিষয়ে উড ম্যাকেনজির প্রধান বিশ্লেষক বেন গ্যালাগার বলেছেন,  গত বছর ছিল বিশ্বব্যাপী কার্বনশূন্য করার মুখ্য বিষয়। যেখানে মূলত শূন্য কার্বন (জিরো কার্বন) নির্গমনকে উৎসাহিত করেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..