করপোরেট টক

আরামিট গ্রুপ

আরামিট গ্রুপের পথচলা শুরু ১৯৬৩ সালে। দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে এ গ্রুপের। কেননা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে নির্মাণ খাতের জন্য গুণগত মানে সেরা সামগ্রী উৎপাদন করে আসছে গ্রুপটি। নির্মাণসামগ্রীর পাশাপাশি গ্রুপটির অধীনে রয়েছে পাওয়ার প্লান্ট, রয়েছে পাদুকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও।

অঙ্গপ্রতিষ্ঠান
আরামিট লিমিটেড
আরামিট গ্রুপের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রধান প্রতিষ্ঠান আরামিট লিমিটেড। টিম এসএ লুক্সেমবার্গের কারিগরি সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয় ১৯৬৩ সালে। ১৯৭২ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। ছাদ নির্মাণের বিভিন্ন উপকরণ, পয়োনিষ্কাশনের পাইপ, সিলিং ইন্সুলেটিং শিট প্রভৃতি উৎপাদন করে। পুরো দেশে সরবরাহ করা হয় এসব পণ্য। কর্মক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের কারণে গ্রাহক ও স্টেকহোল্ডারদের কাছে এর সব ধরনের পণ্যের কদর রয়েছে। উন্নত ও সেরামানের পণ্য ও সেবার কারণে ১৯৮৮ সালে ১০ম গোল্ডেন আমেরিকা অ্যাওয়ার্ড ফর কোয়ালিটি অর্জন করে আরামিট লিমিটেড।

আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম
২০০০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। উৎপাদনে আসে ২০০২ সালের ২৫ জুন। বিভিন্ন আকারের অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী তৈরি করে আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম। রফতানিও হয় এ প্রতিষ্ঠানের পণ্য। দরজা, জানালা, পর্দা, দেওয়াল, পাইপ, টাওয়ার বোল্ট, শোকেস, সাইনবোর্ড, অটোমোবাইল প্রভৃতির জন্য প্রতিষ্ঠানটির পণ্য প্রস্তুত করা হয়।

আরামিট সিমেন্ট
১৯৯৫ সালের ১৯ আগস্ট পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে যাত্রা করে আরামিট সিমেন্ট। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৯ সালের ১০ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক মানের সিমেন্ট প্রস্তুত করে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট-৪২.৫এন, পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্ট-৪২.৫এন, পোর্টল্যান্ড সø্যাগ সিমেন্ট ও ওপিসি-৪৩এন গ্রেড। ভারত ও মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশে রফতানি করা হয় এ সিমেন্ট। প্রাথমিক পর্যায়ে এ প্রতিষ্ঠানের একটি কারখানায় দৈনিক ৭০০ টন সিমেন্ট উৎপাদন হতো। পরে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণের জন্য আরও একটি কারখানা নির্মাণ করা হয়। এখানে দিনে ১০০০ টন সিমেন্ট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

আরামিট ফুটওয়্যার লিমিটেড (এএফএল)
স্পোর্টস সুজ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় আরামিট ফুটওয়্যার। ফুটওয়্যারে উন্নত মানের কাঁচামাল ব্যবহার করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ খাতের উন্নয়নে তাদের অনেক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম দামে উন্নত মানের ফুটওয়্যার তৈরি ও রফতানি করতে সক্ষম এ প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে সিøপার, স্যান্ডেল, কেডস প্রভৃতি তৈরি করা হয় এখানে। প্রতিদিন প্রায় আট হাজার জোড়া ফুটওয়্যার প্রস্তুত করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

আরামিট পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল)
বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য আরামিট পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল) নির্মাণ করেছে গ্রুপটি। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ক্যাটারপিলারের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এখানে। আরামিট গ্রুপের সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা সরবরাহ করা এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর প্রতিষ্ঠানটি।

আরামিট স্টিল পাইপস লিমিটেড (এএসপিএল)
ইউরোপ ও জাপানের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এসএস স্টিল পাইপ প্রস্তুত করে এএসপিএল। তাদের উৎপাদিত পণ্যে কোনো মরিচা ধরে না। এর উজ্জ্বলতা টিকে থাকে দীর্ঘদিন।
ধারাবাহিক উৎপাদন আরামিট গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রি ও মুনাফা প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে চলেছে। ব্যবসায় নীতি নৈতিকতা মেনে চলে এ গ্রুপের সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। আন্তরিকতা ও সততা তাদের পুঁজি। উৎপাদনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ও ক্যামিকেল ব্যবহার করে আসছে তারা। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সব পদ্ধতি এড়িয়ে চলা হয় এখানে। যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করা হয় গ্রাহকের কাছে। পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গ্রুপটির সব প্রতিষ্ঠানকে অনন্য করে তুলেছে। কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ রেখেছে তারা। যথাসময়ে সব কর্মীর প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয় এখানে।
আরামিট গ্রুপে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন এসএম জামাল আহমেদ। এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও কোম্পানি সেক্রেটারি পদে রয়েছেন বি গুপ্ত।

রতন কুমার দাস

 

সর্বশেষ..