প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আর্থিক অবস্থা শোচনীয় ৯ কোম্পানির

আট বছরে ৯০ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বিগত আট বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৯০টি প্রতিষ্ঠান। এসব কোম্পানির তালিকাভুক্তি ঘটে বাংলাদেশে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের আমলে। তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান ও ফান্ডের মধ্যে বর্তমানে আর্থিক দিক দিয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে ৯ প্রতিষ্ঠান।
বাজারে অভিষেক ঘটার সময় এসব কোম্পানির শেয়ার চাহিদা থাকলেও সময়ের বিবর্তনে এর কদর কমে গেছে। বর্তমানে তলানিতে নেমে গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। পাশাপাশি লভ্যাংশ না দিতে পারায় কিছু কোম্পানির অবস্থান হয়েছে ‘জেড’ কাটেগরিতে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে কম দরে শেয়ার কেনাবেচা হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: অলিম্পিক এক্সেসরিজ, জাহিন স্পিনিং, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এ্যাপোলো ইস্পাত, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, তুংহাই নিটিং ও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল।
বর্তমানে এসব কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা তলানিতে নেমেছে। এদিকে দর কম হলেও এসব শেয়ারের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যে কারণে সময় যতই গড়াচ্ছে, ততই এর দর আরও কমছে। দীর্ঘদিন থেকে এসব শেয়ার দুই টাকা থেকে ১০ টাকার কমে লেনদেন হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোনো কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্তির আগে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নেওয়া উচিত। এমনকি ওই গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত থাকলে তার আর্থিক অবস্থাও বিবেচনায় আনা উচিত। যারা এসব কোম্পানির বড় পদে আছেন, তাদের সম্পর্কেও জানা দরকার। সবদিক বিবেচনা করে কোম্পানি আনলে তার অবস্থা ভবিষ্যতে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে বিষয়টিতে ভিন্নমতও পোষণ করছেন অনেকে। তাদের অভিমত, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা কখন কি হবে বোঝার উপায় নেই। একটি ভালো কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও ব্যবসা মন্দার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। বিশ্বের সব দেশের পুঁজিবাজারে এ ধরনের কোম্পানি রয়েছে বলে তারা মতপ্রকাশ করেন।
জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্তির আগে ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে জানা দরকার। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো কিংবা মৌলভিত্তিসম্পন্ন, তারাই কেবল পুঁজিবাজারে আসে। অর্থাৎ, প্রথম অবস্থায় তাদের ভালোমন্দ বিচারের জ্ঞানটা ওইভাবে থাকে না। তাই সংশ্লিষ্টদের এ কাজটি করতে হবে। তাহলে বাজারে যেমন ভালো কোম্পানি আসবে, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, বহুজাতিক কোম্পানির আর্থিক অবস্থা আমরা সাধারণত খারাপ হতে দেখি না। কারণ, এসব কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি শক্ত থাকে।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের এমডি বলেন, বাইরের দেশগুলোয় কিন্তু এ ধরনের কোম্পানির অভাব নেই। এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর যে কোনো কারণেই হোক, আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। সেসব কোম্পানি নিয়ে কিন্তু এত আলোচনা হয় না। বিনিয়োগকারীদের উচিত, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে ওই কোম্পানি থেকে বের হয়ে আসা।
খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের বিগত আট বছরে আইপিও অনুমোদন দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার একই গ্রুপের সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। যে কারণে এখন আর সামিট পূর্বাঞ্চলের অস্তিত্ব নেই। বাকি ৮৯ কোম্পানির মধ্যে ৬০টির শেয়ারদর ইস্যু মূল্যের ওপরে রয়েছে। বাকি ২৯ কোম্পানি ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করছে।
এদিকে শেয়ারদর কমে যাওয়ায় এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা। কারণ, ক্রেতা না থাকায় তারা এসব শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে এখানে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থ আটকে থাকছে। তাদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, এসব শেয়ার নিয়ে তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। অভিহিত দরের নিচে শেয়ার কিনেও ভোগান্তিতে রয়েছেন অনেকে।

সর্বশেষ..