প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আর্থিক খাতের শেয়ার দরে বড় উল্লম্ফন

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার চিত্র

শেখ আবু তালেব: সব সূচকের ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা কমলেও অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। আর্থিক খাতের কোম্পানির শেয়ারদরে বড় উল্লম্ফন হয়েছে। নেতিবাচক ধারায় চলতে থাকা ব্যাংকবহির্র্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সবচেয়ে বেশি গেইনারে ছিল।

ডিএসইর সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ৭ নভেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে সামান্য কিছুটা কমেছে। বড় মূলধনি সব খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে আর্থিক খাতের শেয়ারদরে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) সবচেয়ে বেশি শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাতটির শেয়ার গত সপ্তাহে ছয় দশমিক ৯ শতাংশ গেইন করেছে, যা গত সপ্তাহে ডিএসইতে গেইনার খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। খাতটির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৩টি এনবিএফআই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকায় শেয়ার লেনদেন বন্ধ রেখেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে থাকা ২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান শেয়ারদর হারিয়েছে। বাকি ২১টির শেয়ারদরই বৃদ্ধি পেয়েছে।

পুরো সপ্তাহের দর পর্যালোচনা শেষে এসব শেয়ারে গেইনারে ছিল বিনিয়োগকারীরা। যদিও গত সপ্তাহের শেষ দিনে ১২টি প্রতিষ্ঠান নেতিবাচক ধারায় শেয়ার লেনদেন শেষ করে। কিন্তু পুরো সপ্তাহের বিবেচনায় শেয়ারদর বৃদ্ধির তুলনায় পতন ছিল সামান্যই।

কয়েকটি দুর্বল এনবিএফআইয়ের শেয়ারদর বৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ার সংবাদ নিয়মিতই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও তাদের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছে। তারপরও এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে গত সপ্তাহে।

অবশ্য আর্থিক খাতের বড় উল্লম্ফনের মধ্যেই মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ছিল ব্যতিক্রম। গত সপ্তাহেও নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে। এই সময়ে খাতটির শেয়ারদর পতন হয় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ।

এই সময়ে ডিএসইর সব সূচক ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে। তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসই৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩০ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫৭টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ২২১টির বা ৬২ শতাংশ, শেয়ারদর কমে ১১২টির বা ৩১ শতাংশ, দর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির এবং লেনদেন হয়নি দুটি সিকিউরিটিজের।

ইতিবাচক ধারায় শেষ হওয়া ডিএসইর লেনদেনে ‘জেড’ ক্যাটেগরির অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য হারে। আগের সপ্তাহের চেয়ে গত সপ্তাহের চেয়ে লেনদেন সামান্য কমলেও তেজিভাব অব্যাহত ছিল। ২৪ অক্টোবরে শেষ হওয়া সপ্তাহে ‘জেড’ ক্যাটেগরির লেনদেনের চেয়ে ৩১ অক্টোবরে প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ওই সময়ে ‘জেড’ ক্যাটেগরির লেনদেন হয়েছিল ৬২ কোটি সাত লাখ টাকার।

হঠাৎ করেই আড়াই গুণ লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই তেজিভাব লক্ষ্য করা গেছে গত সপ্তাহেও। আলোচিত সময়ে ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকার; যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে বড় মূলধনি প্রায় সব খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। আর্থিক খাতের মধ্যে জীবন বিমার চার দশমিক ১৯ শতাংশ, ব্যাংক খাত দুই দশমিক ৬০ শতাংশ ও সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে অনার্থিক খাতের শেয়ারদরে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই খাতগুলোর মধ্যে প্রকৌশল খাত সর্বোচ্চ এক দশমিক ৮৭ শতাংশ গেইন করেছে। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাত শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ গেইনারের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ পার করেছে।

খাতগুলোর মধ্যে টেলিকম খাত সর্বোচ্চ এক দশমিক ১৯ শতাংশ লোকসান দিয়েছে। একই সঙ্গে লোকসান গুনেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট এক হাজার ৬৫৫ কোটি ১২ লাখ টাকার লেনদেন হয়। মোট লেনদেনে সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ অবদান রাখে প্রকৌশল খাত। এ সময়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং বস্ত্র খাত সাত শতাংশ, সাধারণ বিমা খাত আট শতাংশ, জীবন বিমা খাত এক শতাংশ, সিরামিক খাত তিন শতাংশ, আইটি খাত দুই শতাংশ অবদান রাখে।

লোকসান দেওয়া মিউচুয়াল ফান্ড খাত তিন শতাংশ অবদান রাখে। এছাড়া ব্যাংক খাত ১১ শতাংশ, বস্ত্র খাত ১২ শতাংশ, টেলিকম খাত দুই শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাত ১৩ শতাংশ এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত (এনবিএফআই) মোট লেনদেনের তিন শতাংশ অবদান রাখে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে শেয়ারদর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ ১০টির তালিকার প্রথমে রয়েছে হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ৩৫ দশমিক সাত শতাংশ। সর্বশেষ লেনদেনে শেয়ারটি ৪৬ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটি সর্বমোট তিন কোটি চার লাখ ৯১ হাজার টাকা লেনদেন করে; যা গড়ে গ্রতিদিন ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২০০ টাকা।

শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছেÑসুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজ, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, গোল্ডেন হার্ভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস, শমরিতা হসপিটাল, বসুন্ধরা পেপার মিলস, মাইডাস ফিন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স।

অন্যদিকে শেয়ারদর পতনের শীর্ষ ১০টির প্রথমে উঠে এসেছে রহিম টেক্সটাইল মিলস। সপ্তাহে কোম্পানির সর্বোচ্চ দর কমেছে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২৪৭ টাকা দরে লেনদেন হয়। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটি সর্বমোট এক কোটি ৭৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

এছাড়া পতনের তালিকায় উঠে এসেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, বাটা শু, মুন্নু জুট স্ট্যাফলার, স্টাইল ক্রাফট, ফ্যামিলি টেক্স বিডি, আইসিবি এমপ্লইজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান: স্কিম ও ফার্স্ট ফাইন্যান্স।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..