প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আর্থিক খাতে অনিয়ম করে পার পেয়ে যাচ্ছেন ইস্যুয়াররা:মির্জ্জা আজিজুল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আর্থিক খাতে অনিয়ম করে পার পেয়ে যাচ্ছেন ইস্যুয়াররা। কিন্তু তাদের শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না। যে কটি কোম্পানির ইস্যুয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় তাদের বিচার হবে না বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশে আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি কম। বিশেষ করে আর্থিক খাতে আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি আরও কম হয়। এতে কোম্পানির সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোতে ‘তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন: বর্তমান অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এর আয়োজক অনলাইন বিজনেস নিউজপোর্টাল অর্থসূচক ডটকম। সেমিনারে সেশন চেয়ার ছিলন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, কোম্পানির মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগকারীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তারা যদি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের ভিকটিম হিসেবে মনে করবেন না। আপনাদের প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

কোম্পানির সুশাসনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, কমিশনসহ সব কয়টি রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান মিলে অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হাইকোর্টে সঙ্গে বসে দ্রুত মামলা নিষ্পতির ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করেন প্রবীণ এ অর্থনীতিবিদ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আইনে অনেক অসামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলোকে সার্বিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই অসামঞ্জস্যতাগুলো দূর করা হবে। কিছু কিছু অভিযোগ আছেÑনিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাব রয়েছে, আমার ক্ষমতা আপনার চেয়েছে বেশি। সুতরাং আমার কাজ আমি করব আপনার নাক গলার কে। এর রকম পরিস্থিত যেন না যে দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।

বিএসইসির সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সেসব কোম্পানিকে বুঝতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি কোম্পানির দীর্ঘস্থায়িত্ব অধিক প্রবৃদ্ধি ও বাজারে তাদের ব্র্যান্ডিং হবে। কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকে বিষয়টি বোঝাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

কোম্পানির সুশাসন এক দিনে প্রতিষ্ঠা হয় না উল্লেখ করে মির্জ্জা আজিজুল বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা হতে সময় লাগবে। এটি একদিনে সম্ভব হবে না। অনেক কোম্পানিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সব কোম্পানিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা আনতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লা, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ সাদেক। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান খসরু এফসিএ।