সম্পাদকীয়

আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কঠোর হোন

২০১০ সালের বিপর্যয়ের পর ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পুঁজিবাজার। তখন বাজারে যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও কাটানো যায়নি। কারণ, তখন হাজারো বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখনও মাঝে মধ্যে পুঁজিবাজার গভীর সংকটে পড়ে যাচ্ছে, চলতি মাসের শুরুর দিকেও যা লক্ষ্য করা গেছে। পুঁজিবাজারে সংকটের কারণ উল্লেখ করা পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞরা নানা পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যেসব নির্দেশনা দেয় তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। তবে এসব নিদের্শনা-সংশ্লিষ্টরা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন, বড় প্রশ্ন তা নিয়েই।

‘আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে’ শিরোনামে গত শুক্রবারের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাব ভোগাচ্ছে পুঁজিবাজারকে। এমন মন্তব্য করেছেন খোদ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক। তার মতে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদনের সঙ্গে আমাদের রিপোর্টের পার্থক্য অনেক বেশি। এমনকি শ্রীলঙ্কার মতো দেশের স্ট্যান্ডার্ড অনেক আধুনিক এবং আইপিও প্রসেসিং স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা এ সক্ষমতা অর্জন করলেও বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজার এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা হতাশাজনক।

পুঁজিবাজারের দুরবস্থার জন্য অতীতে নানা কারণ সামনে এসেছে। তবে এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কারসাজি এবং কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে অস্বচ্ছতা। এর বাইরে সুশাসনের অভাব, অনিয়ম-দুর্নীতি, জেড ক্যাটেগরির দৌরাত্ম্য, অনিয়ম-দুর্নীতি, বহুজাতিক ও ভালো কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করতে না পারার মতো ব্যাপার রয়েছে। দেখা যায়, অনেক কোম্পানি কোটি টাকার অনিয়ম করে লাখ টাকার জরিমানা দিয়ে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি সংকট সমাধানে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সহজ শর্তে ঋণ, বহুজাতিক ও সরকারি লাভজনক কোম্পানি তালিকাভুক্তির মতো নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। যেগুলো বাস্তবায়িত হলে সংকট অনেকটা কাটানো সম্ভব বলে অনেকে মনে করেন।

ডিএসই পরিচালকের মতে, বাজারের এখনকার পরিস্থিতিতে সহায়ক শক্তিগুলোর প্রয়োজন। আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাব দূর করা গেলে ভালো মানের আইপিও আসবে। কথাগুলো যৌক্তিক। কারণ পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদন দেখে এখন শেয়ার কিনলে লোকসানের শঙ্কা থেকে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে স্বল্প সময়ে মুনাফা করার আশা করেন, যা উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সংকটগুলোর দ্রুত অবসান ঘটাতে হবে। এছাড়া তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..