প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ইতিবাচক প্রভাব

 

রুবাইয়াত রিক্তা: সপ্তাহের প্রথম দিন ইতিবাচক ধারায় শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারের লেনদেন। সূচক বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য না হলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে আড়াইশ কোটি টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। বাজেট ঘোষণার পর থেকে বাজার ইতিবাচক থাকলেও জুলাই মাসে অনেক কোম্পানির বিভিন্ন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আসছে লভ্যাংশ ঘোষণার খবর। এছাড়াও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো দিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন ঘোষণা। পুঁজিবাজারে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ। এসব খবরই সাম্প্রতিককালে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করেছে। বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরাও আশাবাদী হচ্ছেন। তারা নিয়মিত হচ্ছেন শেয়ার লেনদেনে। এ মুহূর্তে বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও তৎপর থাকতে হবে। কারণ বাজারের এই গতিশীলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন বড় ধরনের পতন ডেকে আনার মতো কারসাজি করার সুযোগ না পান।

গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ৯ পয়েন্ট। সূচক ইতিবাচক করতে জিপি মূল ভূমিকা রেখেছে। অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিপির মুনাফা ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধির খবরে শেয়ারটির দর বেড়েছে ছয় টাকা ২০ পয়সা। জিপির কারণে সূচক বেড়েছে ১৩ পয়েন্ট, বিএটিবিসির কারণে ছয় পয়েন্ট। এছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংক, ইফাদ অটোস, আইডিএলসিও সূচকের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে ইউনাইটেড পাওয়ার, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মার কারণে সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গতকালও লেনদেনে বস্ত্র খাতের প্রভাব অক্ষুন্ন ছিল। এ খাতে লেনদেন হয় প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা বা ১৯ শতাংশ। এরপর প্রকৌশল খাতে প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা বা ১৫ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৪৫ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৩৫ কোটি টাকা বা মোট লেনদেনের ১১ শতাংশ, ব্যাংক খাতে ১০ শতাংশ বা ১২৫ কোটি টাকা।

গতকাল বড় মূলধনি ও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি বাজারকে ইতিবাচক করেছে। যেমন জিপি, বাটা শু, গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন, আইসিবি, আইডিএলসি, বিএটিবিসির দর বেড়েছে। ইফাদ অটোসের ৭৩ কোটি টাকার শেয়ার, কনফিডেন্স সিমেন্ট ৭০ কোটি টাকা, কেয়া কসমেটিকস ৫২ কোটি টাকা, ডরিন পাওয়ার ৪৮ কোটি ও ইউনাইটেড পাওয়ার ৪১ কোটি টাকার শেয়ার  বেচাকেনা করে লেনদেনের নেতৃত্ব দেয়। দর বাড়ার শীর্ষ পর্যায়ে ছিল পিপলস লিজিং, ঢাকা ডায়িং, দুলামিয়া কটন, মেট্রো স্পিনিং, ইমাম বাটন, রহিমা ফুড। সবগুলো কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরির। এসব শেয়ারের দর ছয় থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।