প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে ঋণ বিতরণ করছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেবা খাতে ১৫, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ৩০ এবং ব্যবসা খাতে ৫৫ শতাংশ কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ বিতরণের নিয়ম থাকলেও তা মানছে না আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ম ঠিকঠাকভাবে মেনে ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণের চিত্র নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি সভা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ। সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টিই তাদের নির্ধারিত ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে রয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর দৈনিক শেয়ার বিজে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান এক টাকাও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। কারও কারও ঋণ বিতরণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশের নিচে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেন ঠিকঠাকভাবে ঋণ বিতরণ করতে পারেনি, তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ বিতরণে পিছিয়ে রয়েছে এ কথা বাংলাদেশ ব্যাংক শুনতে চায় না।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহিম এবং এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, এ খাতে ঋণ বিতরণে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে সিএএমপি ভেনচার ক্যাপিটাল, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, বিআইএফএফসি ও আইডিসিওএল। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আইডিসিওএল এবং বিআইএফএফসি কোনো ধরনের ঋণ বিতরণ করেনি। ন্যাশনাল ফাইন্যান্স ২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বিতরণ করতে পেরেছে মাত্র দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার সাত দশমিক ৯৭ শতাংশ। আর সিএএমপি ভেনচার ক্যাপিটাল চলতি বছরের ৯ মাসে ঋণ বিতরণ করেছে তিন কোটি ১০ লাখ টাকা।

এছাড়া ঋণ বিতরণে জিএসপি ফাইন্যান্স, বে-লিজিং, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, বিআইএফসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, বিএফআইসি, লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স পিছিয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তনু সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা এ সময়টাতে হয়তো যথাযথ গ্রাহক কম পেয়েছি। সে কারণে অন্যদিকে ঋণ বিতরণ হলেও এখানে কিছুটা কম বিতরণ হয়েছে। এছাড়া আমাদের কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন শাখার সংখ্যা অনেক কম। মাত্র বনানী ও চট্টগ্রাম এ দুটি শাখা খুলেছি। এজন্য ছোট ঋণ বিতরণ আমাদের জন্য একটু কষ্টকর।

জানা গেছে, ফারইস্ট ফাইন্যান্স এ ৯ মাসে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মতো বিতরণ করেছে। তবে এসএমইতে ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে ৩৮ কোটি টাকা। যেখানে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণে বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে রয়েছে বলে তাদের নিয়ে একটি সভা ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ইউনাইটেড লিজিং কোম্পানি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ৬৩২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯ মাসে বিতরণ করেছে এক হাজার ৪১৯ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক হাজার ৩০৩ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়ে ৯০ শতাংশ। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে লঙ্কা-বাংলা, মাইডাস এবং ইসলামিক ফাইন্যান্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যথাক্রমে ২৫৮, ২০৬ এবং ১৩৯ কোটি টাকা বিতরণ করতে পেরেছে। যেখানে ইসলামিক ফাইন্যান্স লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ বিতরণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৪৫ শতাংশ।