সম্পাদকীয়

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম রোধে পদক্ষেপ কাম্য

ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) যে ঋণ বিতরণ করে, তার প্রধান উৎস আমানতকারীদের অর্থ। এ অর্থ ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করে তা থেকে অর্জিত মুনাফা ও সুদের অর্থে আমানতকারীদের মুনাফা দেয়া হয়। কাজেই আমানতের অর্থ যদি নয়ছয় হয়, তাহলে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়ে। তাই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘বনেদি উত্তরা মোটরসের পেটে উত্তরা ফাইন্যান্স?’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, উত্তরা ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠায় যেসব ব্যক্তি উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারাই আবার সেখান থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ উত্তোলন করে বড় ধরনের অনিয়ম করেছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি নানামাত্রিক অনিয়ম হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যে ব্যবস্থাপনা টিম রয়েছে, সেই টিমের শীর্ষ সদস্যও অনিয়মের ভাগীদার হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিজেই অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে প্রতিবেদন মারফত জানা যাচ্ছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যারা পেশাদার হিসেবে বিবেচিত, তাদের এভাবে অনিয়মে জড়িয়ে পড়া দুর্ভাগ্যজনকই বটে। এর আগে আর্থিক খাতের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এমডি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থ লোপাটের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি পলাতক। এভাবে একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা ঘটতে থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হবে বৈকি। কাজেই ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের মতো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে ঢালাওভাবে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত না হতে পারে, সে বিষয়ে প্রযোজনীয় পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির উদ্ভাবন হওয়া জরুরি বলে মনে করি।

বর্তমানে বেসরকারি খাতের ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ার বিষয়ে তারা ব্যাংক পরিচালনায় নিয়োজিত নির্বাহীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। এমনকি ব্যাংকের এমডিদের নানাভাবে পর্ষদের লোকজন চাপে রাখে বলেও জানা যায়। এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন অপরিনামদর্শী কার্যক্রম বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম ভূমিকা রাখা উচিত বলে মনে করি।

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে জনস্বার্থ জড়িত। মানুষ কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখে। কাজেই এগুলোর পেশাদারিত্ব ধরে রাখা অত্যাবশ্যক। তাই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যারাই অনিয়ম করুক না কেন, তাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র সে দায়িত্ব পালন করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..