সম্পাদকীয়

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে উদ্যোগী হোন

খেলাপি ঋণ, প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন সক্ষমতা বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোট ৩৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান সুবিধাজনক। বাকি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি মাঝামাঝি ও ১২টি প্রতিষ্ঠান মন্দ দশায় রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ অবস্থা হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়নি। নিয়ন্ত্রক হিসেবে এর দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর বর্তায়। দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে বন্ধ করা হলো। বিআইএফসি রয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছে ভালো কোনো পরিচিতি লাভ করার আগেই এই শোচনীয় পর্যায়ে পড়ে গেল। এমনকি তাদের আমানতের সবচেয়ে বড় উৎস প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের কারণে তাদের সঙ্গে কারবার করতে নাখোশ। এছাড়া পিপলস লিজিং বন্ধ করার ভেতর দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নৈপুণ্য সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল হবে কি না এমন সন্দেহ জনমনে থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃঢ় পদক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নয়ন হওয়া অত্যাবশ্যকীয় ও প্রত্যাশিত।
গত পাঁচ বছরের অভিঘাত সহিষ্ণুতায় ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ওঠানামার ভেতর দিয়ে চলেছে। গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজের এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে টালবাহানা করছে ও খেলাপিতে পড়েছে। সাধারণ গ্রাহক ও খাতসংশ্লিষ্টরা এ বিশৃঙ্খলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বে অবহেলাকে দুষলেও সঠিক সময়ে সঠিক তদারকির অভাবে এখন গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন আমানত না পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক তা সুরাহা করতে পারছে না। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়িত করা ভালো সমাধান হতে পারে না। পিপলস লিজিংয়ের অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনেক আগেই ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা শুরু হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক শুরুতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে দীর্ঘসূত্রতা করে। আবার তদারকির কাজে ন্যস্ত বিভাগটির কার্যক্রম নিয়েও খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ রয়েছে। অবসায়িত প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জখানিও বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্ত হাতে নিতে হবে। পিপলস লিজিং প্রতিষ্ঠানটির যেসব কর্মকর্তা বিতরণ করা ঋণ জালিয়াতি করে তুলে নিয়েছে, সেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। এতসব বড় জালিয়াতি এক দিনে ঘটেনি। আবার যেসব ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নানা বিশৃঙ্খলায় পর্যুদস্ত, সেখানেও বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেই বন্ধ করে দিতে হবে।
পরিস্থিতি আরও পর্যুদস্ত হওয়ার আগেই প্রতিকার কিংবা অবসায়নের কথা না ভেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তথা সর্বোপরি সরকার বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা রাখি।

সর্বশেষ..