বিশ্ব বাণিজ্য

আর্থিক মন্দার পর চলতি সপ্তাহে বিশ্ব পুঁজিবাজারে বড় পতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক  : করোনাভাইরাসের প্রভাবে কয়েক দিন ধরেই পতনের ধারায় বিশ্ব পুঁজিবাজার। গতকাল শুক্রবার বড় পতন হয়েছে বিশ্বের প্রায় সব বাজারে। ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার পর চলতি সপ্তাহেই সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে বিশ্ব পুঁজিবাজার। এর প্রভাব পড়েছে অন্য বাজারে। খবর: রয়টার্স।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের ডাও জোনস অ্যাভারেজ সূচক পড়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ পয়েন্ট। এক দিনে পতনের এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে সাড়ে চার শতাংশ এবং নাসডাক সূচক কমেছে চার দশমিক ৬১ শতাংশ।

এর প্রভাব পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের পুঁজিবাজারেও। গতকাল শুক্রবার এশিয়ার পুঁজিবাজারের মধ্যে জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে তিন দশমিক ৬১ শতাংশ। চীনের সাংহাই সূচক কমেছে তিন দশমিক ৭১ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে দুই দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া ভারতের সেনসেক্স সূচকও এদিন কমেছে তিন শতাংশের বেশি।  প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে লেনদেন চলছিল। সব সূচকও ছিল নি¤œমুখী। এর মধ্যে লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক কমেছে তিন দশমিক ২৫ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স সূচক কমেছে চার শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি সূচক কমেছে তিন দশমিক ৪২ শতাংশ। 

করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার উলসানে বৃহত্তম গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হুন্দাই মোটরসের এক কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ওই কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের প্রায় চার হাজার কর্মীকে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কর্মীদের ব্যবসায়িক ভ্রমণ নিষিদ্ধ করতে শুরু করেছে ইউরোপের বড় বড় কোম্পানি। ফলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সেখানকার অর্থনীতিতে। বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেসলে জানিয়েছে, তারা দুই লাখ ৯১ হাজার কর্মীকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে যেখানে সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থা বা যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ সারতে হবে। এছাড়া গত দু’সপ্তাহে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, কানাডা, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো করোনাভাইরাস-সংক্রমিত দেশে ভ্রমণ করা কর্মীদের অন্তত ১৪ দিন যদি সম্ভব হয় বাসায় থেকে কাজ করতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় কসমেটিকস কোম্পানি লরিয়েল জানিয়েছে, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে তারা মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত কর্মীদের সব ব্যবসায়িক ভ্রমণ স্থাগিত করেছে।’ কনজ্যুমার জায়ান্ট ইউনিলিভার বলছে, তারা ইতালিসহ ভাইরাস-সংক্রমিত দেশগুলোতে যাওয়া-আসা করা কর্মীদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শুধু ‘অতি জরুরি’ বাণিজ্যিক কাজে বিদেশ যেতে পারবেন বহুজাতিক এ প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। একই ব্যবস্থা নিয়েছে ইতালিয়ান ব্যাংক ইউনিক্রেডিট ও আমস্টারডাম-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রোসাস। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য প্রতিষ্ঠান কারগিল জানিয়েছে, তারাও কর্মীদের অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ বাতিল করেছে।

শুধু নেসলে, লরিয়েল ও ইউনিলিভারেরই বিশ্বজুড়ে অন্তত পাঁচ লাখ ৩২ হাজার কর্মী রয়েছে। যদি আরও কোম্পানি এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তবে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিমান পরিচালনা শিল্প। এমনিতেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে চাপের মুখে রয়েছে তারা। অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করে উড়োজাহাজ অলস বসিয়ে রেখেছে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..