প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আর্থ্রাইটিসে কী খাবেন, কী খাবেন না

নানা ধরনের বাতব্যথা বা আর্থ্রাইটিস পরিচিত একটি রোগ। নানা ধরনের বাতের সমস্যা আছে। যেকোনো ধরনের ব্যথাতেই জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা আছে। যাদের সন্ধিব্যথা বা বাত আছে, তারা খাবারের বেলায় কিছু সতর্কতা পালন করবেন।

যা খাবেন: দুধ ও দুধজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে। এগুলো হাড় শক্তিশালী করে। রুই, টুনা ও স্যামন মাছে রয়েছে প্রদাহনাশক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ৮৫ থেকে ১১৩ গ্রাম এ ধরনের মাছ খাওয়া প্রয়োজন। সয়াবিনে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা প্রদাহ কমায়। তা ছাড়া সয়াবিনে রয়েছে লো ফ্যাট, উচ্চমানের প্রোটিন ও ফাইবার। আখরোট, পেস্তা ও কাঠবাদাম- এসবে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, ভিটামিন ই এবং ফাইবার। অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও আর্থ্রাইটিস উভয়ের জন্যই এসব বাদাম বেশ উপকারী। শিমের বীজে রয়েছে প্রোটিন, লৌহ, জিংক ও পটাশিয়াম। বাতের কারণে ফোলা ভাব কমাতে এটি খুবই ভালো কাজ করে। লেবুজাতীয় ফল ও আঙুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। অস্টিওআর্র্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত এসব ফল খেলে ব্যথা ও যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই মুক্তি পান। গ্রিন টি পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। এটি ব্যথা কমায় ও তরুণাস্থির ক্ষতির মাত্রা কমায়। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হাড়কে সুরক্ষা দেয়। ব্রকলি অনেক রোগের ক্ষেত্রে খুব ভালো একটি খাবার।

যা খাবেন না: টমেটোয়তে রয়েছে ইউরিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড হাড়ের জোড় বা জয়েন্টে জমা হয়, যা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়ায়। আর্থ্রাইটিসে ফসফরাসসমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো; যেমন লাল মাংস (গরু, খাসি)। এতে শরীরে অতিরিক্ত ফসফরাস জমা হয় এবং ক্যালসিয়াম হারিয়ে যায়। হাড়ের জোড়ে ব্যথা থাকলে চিনি খাওয়া ক্ষতিকর। এতে ওজন বাড়ে ও জয়েন্টে চাপ পড়ে। কফি শরীরকে পানিশূন্য করে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়ায়। অ্যালকোহল হাড়কে ভঙ্গুর করে দেয়। তাই হাড় সুস্থ রাখতে ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কমাতে মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া বেগুন, লাল মরিচ, আলু- এগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যালকালোয়েডস। এগুলো প্রদাহ তৈরি করে। তাই হাড়ের জোড়ে ব্যথা থাকলে এগুলো খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিন।

ডা. আরিফ যোবায়ের

কনসালট্যান্ট, ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ হেলথকেয়ার সেন্টার