প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আর্সেনিকের কবলে কুষ্টিয়ার ১০ গ্রাম

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষ বর্তমানে আর্সেনিকে আক্রান্ত। ১০ বছর ধরে ওইসব গ্রামের মানুষ আর্সেনিক সমস্যায় ভুগলেও এ বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। খবর বাংলা ট্রিবিউন।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামে ৩০ হাজার ৮৬৫ জন বাস করেন। এর মধ্যে মালিহাদ, আবুরী, বাজিতপুর, মাগুরা, মল্লিকপুর, সুতাইল, আসাননগর, ঝুটিয়াডাঙ্গা ও চক হাড়দী গ্রামের প্রায় ১৯ হাজার ৭১০ জন আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমানে এসব গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত।

জানা গেছে, মালিহাদ ইউনিয়নের মালিহাদ, আবুরী, বাজিতপুর, মাগুরা, মল্লিকপুর, সুতাইল, আসাননগর, ঝুটিয়াডাঙ্গা ও চক হাড়দী গ্রামের মানুষ অনেকটা জেনে-বুঝেই আর্সেনিকের মতো বিষপান করে চলেছে। কেননা এসব গ্রামের প্রায় তিন হাজার ৭৭০টি টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে। সরকারিভাবে কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলো নষ্ট। তাই বাধ্য হয়েই মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ে মানুষকে সচেতন করতে বা আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস তৈরি করতে সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আর্সেনিক আক্রান্ত আবুরী গ্রামের সেলিম চৌধুরী জানান, তাদের তিনটি টিউবওয়েলের মধ্যে দুটিতে আর্সেনিক রয়েছে। বাকি একটির পানি পরিবারের সবাই পান করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই গ্রামের অনেক টিউবওয়েলে আর্সেনিক ধরা পড়লেও এখানে পানি পরীক্ষার জন্য কেউ আসেনি। তারা ব্যক্তি উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি নিয়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। মালিহাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রায় ১৯ হাজার ৭১০ জন আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়াও প্রায় এক হাজার মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তিনি জানান, এলাকার অধিকাংশ টিউবওয়েলে আর্সেনিক রয়েছে। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়।