কোম্পানি সংবাদ

আলহাজ্ব টেক্সটাইলের দর বৃদ্ধিতে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের। সম্প্রতি অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কোম্পানিটি এমন তথ্য জানায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি কোম্পানিটির অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। জবাবে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে জানায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
গত ১৮ আগস্ট কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬৩ টাকা ৭০ পয়সা, যা গতকাল ২১ মার্চ লেনদেন হয় ৭৩ টাকা ৯০ পয়সায়। এ হিসাবে মাত্র তিন কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১০ টাকা ২০ পয়সা। আর এই দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।
এদিকে বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির কারখানা আরও ১৫ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজারে পণ্যের চাহিদা না থাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে বিক্রি কমে গেছে। এছাড়া চলতি মূলধন সংকট ও প্রস্তুতকৃত পণ্য মজুত রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গার অভাব রয়েছে। এ কারণে গত ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৩০ দিন কোম্পানির কারখানাটি বন্ধ ছিল। কিন্তু এরপর এখন পর্যন্ত বিক্রির কোনো অগ্রগতি হয়নি। এজন্য কোম্পানিটির কারখানা আরও ১৫ দিন অর্থাৎ ৯ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে ডিএসইতে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দুই দশমিক ৯২ শতাংশ বা দুই টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৭৪ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৭৩ টাকা ৯০ পয়সা। দিনজুড়ে ১০ লাখ সাত হাজার ৭৫১ শেয়ার মোট দুই হাজার ৫১৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর সাত কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৪২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ১২ টাকা ৩৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা।
এর আগে ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। যা তার আগের বছরের সমান। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে এক টাকা ৭৪ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৫৯ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৫৩ পয়সা ও ১৩ টাকা ৫৪ পয়সা।
কোম্পানিটি ১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট দুই কোটি ২২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৯টি শেয়ার রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের, সরকারি শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৭৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৫৩ দশমিক ৯৬।

সর্বশেষ..