দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আলুর দাম পুনর্নির্ধারণ করল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আলুর দাম বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করল সরকার। কেজিপ্রতি চার থেকে পাঁচ টাকা দাম বাড়িয়েছে সরকার। তবে আলু সরবরাহ কম থাকায় এবং বাজারে অভিযান চালানোয় ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তাদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী আলু কোল্ডস্টোরেজ থেকে আসছে না।

রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আলুর আড়তদার মেসার্স বাণিজ্যালয়ের বিক্রয় প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন জানান, গতকাল তাদের বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আলু ৩২ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সরবরাহ খুবই কম। সরকার দাম বেঁধে দেওয়ায় অনেকেই বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এ বাজারের আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই আলু বিক্রি বন্ধ করেছেন।

বাজারে আলুর দাম স্থিতিশীল করতে গতকাল একটি মতবিনিময় সভা ডাকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। গতকাল বেলা ৩টার দিকে খামারবাড়ীতে অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়। সভায় কোল্ডস্টোরেজ মালিক, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আলুর দাম পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও অন্যান্য স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে ড. রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান।

কৃষি বিপণন অধিপদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসূফ শেয়ার বিজকে বলেন, গতকাল বিকালে কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, আলুর আড়তদার, পাইকারি, খুচরা ও কৃষকদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে কোল্ডস্টোরেজে প্রতি কেজি আলু ২৭ টাকা, পাইকারি বা আড়তদার পর্যায়ে ৩০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেউ দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আলুর দাম পুনর্নির্ধারণ করাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পরিচালক মোস্তফা আজাদ চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, কোলস্টোরেজ পর্যায়ে কেজিপ্রতি চার টাকা বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এ বছর আলুর উৎপাদন কম হওয়ায় এবং করোনাভাইরাস আক্রান্তের শুরুতে দেশে বিপুল পরিমাণ আলু ত্রাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আগে যে দাম সরকার নির্ধারণ করেছিল, তাদের লোকসান হতো। তবে বর্তমান দামে লোকসান হবে না। মোস্তফা আজাদ চৌধুরী আরও জানান, বর্তমানে কোল্ডস্টোরেজ আলু মজুত থাকলেও তা অধিকাংশই বীজ হিসেবে ব্যবহার হবে। এ বছর দাম ভালো থাকায় অনেকেই উৎপাদন মৌসুমে জমি থেকেই আলু বিক্রি করেছেন। চলতি বছর বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাজারে আগাম আলু সরবরাহ পিছিয়ে গেছে। গত বছরও এমনটা হয়েছিল। ফলে বাজারে আলুর সংকট দেখা দেয়।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের আড়তদারেরা গত সোমবার থেকে আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। গতকালও এ বাজারে কোনো আলু বিক্রি হয়নি। পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর পাইকারিতে আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও তাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। হিমাগার থেকে নির্ধারিত দামে আলু পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর গত ৭ অক্টোবর আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২৩ টাকা, পাইকারি বাজারে ২৫ টাকা ও খুচরা বাজারে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কয়েকদিন আগে বাজারে প্রতিকেজি আলু ৫৫ টাকায় ওঠে। দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আলুর দর কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা কমেছে। কিন্তু নির্ধারিত দর কার্যকর হয়নি।

আড়তদারেরা জানান, রাজশাহী, বগুড়া ও মুন্সীগঞ্জে হিমাগার থেকে সরকারের নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি হচ্ছে না। ২৫ টাকার জায়গায় আলু কিনতে হচ্ছে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজিতে। তাই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ঢাকায় আলু নিয়ে আসছেন না। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী গতকাল খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৩৯ টাকায়। গত সপ্তাহে তা বিক্রি হয়েছিল ৪১ টাকায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..