প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আলুর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে কম

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছরের উৎপাদনের চেয়ে আলুর ফলন কম ধরা হয়েছে এ বছর। গত কয়েক বছরের ফলনের ধারাবাহিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেই এবারের লক্ষ্যমাত্রা কম ধরা হয়েছে। এছাড়া বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে আলু চাষ ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে এবার আলুর ফলন কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় চার লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ৯৪ লাখ ৭৪ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়। আর চলতি অর্থবছর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার টন। সে হিসাবে গত বছরের ফলনের চেয়ে ১০ হাজার টন কম আলু উপাদন হবে বলে ধরা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রায় সম্ভাব্য চাষের জমিও ধরা হয়েছে কিছুটা কম। এ বছর মোট চার লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন শাখার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুহু শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আলুর ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশিও হতে পারে। তবে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর দেশে আলুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। সাধারণত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরের উৎপাদনের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন।’

গত কয়েক বছরে আলুর উৎপাদন প্রতিবছরই উঠানামা করছে। বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ২০১০ ও ২০১১ সালে সর্বাধিক ১০০ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর ২০১২ সালে ৮০ লাখ টন আলু হয়। ২০১৩ সালে আলুর ফলন হয় ৭৫ লাখ টন। ২০১৪ সালে উৎপাদন বেড়ে হয় ৮৫ লাখ টন। ২০১৫ সালে আবার এর পরিমাণ ৮০ লাখ টনে নেমে যায়। ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৯০ লাখ টন অতিক্রম করলেও আগামী বছর আবার উৎপাদন কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আলুর চাষ ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দেশের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বন্যা ও অতিবৃষ্টির ফলে আলুর চাষ ব্যাহত হয়। এ কারণে চলতি বছর আলু উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মেজর (অব.) মো. জসীম উদ্দীন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আলু হচ্ছে খুবই সংবেদনশীল ফসল। আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনের কারণে আলুর উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। মাটির তাপমাত্রা বা আর্দ্রতা হ্রাস-বৃদ্ধিও আলুর ফলনে প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলু বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পসংশ্লিষ্ট কৃষিপণ্য। এর বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। আলু উৎপাদন কমলে বা বাড়লে শিল্পে তার প্রভাব পড়ে। তাই আলুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’