Print Date & Time : 27 October 2020 Tuesday 9:52 pm

আলু রোপণ ও তোলার নতুন মেশিন

প্রকাশ: January 4, 2020 সময়- 11:24 pm

কৃষকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট (এফএমপিই) আলু চাষের নতুন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। ফলে স্বল্প সময়ে অধিক জমিতে রোপণ ও উত্তোলন করতে পারবেন কৃষক।

আলু বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশের মাটি ও জলবায়ু আলু উৎপাদনের উপযোগী। জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, কমছে কৃষিজমি। অল্প জমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজন অল্প সময়ে অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন। এজন্য ভালো বীজ, সার ও সেচই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত যন্ত্রপাতি।

আলু শীতকালীন ও স্বল্পমেয়াদি ফসল। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে আলু রোপণ করতে হবে। এ কারণে বাংলাদেশের কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে এফএমপিই ইউনিট আলুসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদনের কয়েকটি লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় ডিজেল ইঞ্জিন ও পাওয়ারটিলার পাওয়া যায়, তাই আলু চাষের যন্ত্রে পাওয়ারটিলারের ইঞ্জিনকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহার করা যাবে। এতে একদিকে পাওয়ারটিলারের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষক স্বল্পখরচে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারছেন।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আলুচাষি মিলন মিয়া ও শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক শফিকুল ইসলাম হেলাল গত বছর এ যন্ত্র দিয়ে জমিতে আলু রোপণ করেছিলেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। তাই এবার আরও বেশি জমিতে এ যন্ত্রের ব্যবহার করবেন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা অতীতের তুলনায় কমেছে। ২০০২ সালে কৃষিতে ৫১.৭ শতাংশ শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। সে সংখ্যা কমে ২০১৮ সালে ৪০.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক হেক্টর জমির আলু যেখানে হাতে লাগাতে ৬৭ শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে, সেখানে যন্ত্র দিয়ে রোপণ করতে মাত্র চার শ্রমিকের প্রয়োজন। হাতে আলু লাগালে প্রতি হেক্টরে খরচ হয় ১৬ হাজার ৯০০ টাকা। যন্ত্র দ্বারা রোপণ করতে খরচ হয় হেক্টরপ্রতি চার হাজার ৮০০ টাকা। যন্ত্র ব্যবহারে ৯৭ শতাংশ শ্রমিক ও ৬৭ শতাংশ রোপণ খরচ কমে যায়। যন্ত্রটি দিয়ে দিনে ছয় থেকে আট বিঘা জমিতে আলু রোপণ করা যায়।

আলু রোপণ ও উত্তোলন যন্ত্রের আবিষ্কারক দলের অন্যতম সদস্য ড. মোহাম্মদ এরশাদুল হক। তিনি ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। এ যন্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষকের সহজে ব্যবহার উপযোগী করে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে যাবে। তিনি আলু উত্তোলনের পাশাপাশি প্যাকেটজাত করার মেশিন আবিষ্কার নিয়েও কাজ করছেন।

পারভীন লুনা, বগুড়া