আলেশা মার্টের অফিসের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ

অনলাইন কেনাকাটায় বাড়ছে আতঙ্ক

হামিদুর রহমান: সময়মতো পণ্য না পাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে পরিশোধ করা পণ্যের দাম রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা আতঙ্কে দিন পার করছেন। আর সময় মতো পণ্য না পাওয়ায় গ্রাহকদের ক্ষোভও বাড়ছে। এ ক্ষোভ থেকেই গতকাল রাজধানীর বনানীতে অনলাইন মার্কেটপ্লেস আলেশা মার্টের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, পণ্য সরবরাহের জন্য বারবার সময় পরিবর্তন করা হয়। পণ্যের জন্য আলেশা মার্টের অফিসে ফোন করা হলেও কোনো সদুত্তর মেলে না। নির্ধারিত সময়ের পর মাস পেরিয়ে গেলেও পণ্য সরবরাহ করা হয় না। ই-ভ্যালিতে পরিচিত অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আলেশা মার্টে বিনিয়োগকারীও আতঙ্কে রয়েছেন। আলেশা মার্ট থেকে পণ্য বা রিফান্ড না পেয়ে ভোগান্তির কথা জানালেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আহসান রাব্বি।

নিজের লোভ আর ভুল স্বীকার করে ক্ষোভ ঝাড়লেন আলেশা মার্টের আরেক ভুক্তভোগী গ্রাহক সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘আমার মোটরসাইকেলের অর্ডার ছিল। সরবরাহের তারিখ পেরিয়ে প্রায় দেড় মাস হলো, এখনও মোটরসাইকেল পাচ্ছি না। কল সেন্টারে ফোন করেও সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্স পাওয়া যায় না। শেষমেশ আমার বাইকের টাকা রিফান্ড চেয়েও পাচ্ছি না। অনেক কষ্ট করে দিনের পর দিন টাকা জমিয়ে আলেশা মার্টে বিনিয়োগ করেছি। এখানে যারা এসেছে সবার অবস্থা প্রায় একই। উপায় না পেয়ে আমরা আলেশা মার্টের অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছি। জানি না কবে আমি আমার টাকা ফিরে পাব।’

গতকাল বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে আলেশা মার্টের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন আলেশা মার্টের অসংখ্য গ্রাহক। গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা নির্ধারিত সময়ে পণ্য বা রিফান্ড বুঝে না পাওয়ায় আলেশা মার্টের অফিসের সামনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তবে আলেশা মার্টের দায়িত্বরত কোনো কর্মী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এক পর্যায়ে বিক্ষোভে লোকজন বাড়তে থাকলে আলেশা মার্ট অফিসের গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।

এসব বিষয়ে জানতে আলেশা মার্টের হেড অব পিআর কাজী তানজিলুর রহমানের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

কুমিল্লা থেকে কাল রাতে ঢাকা এসেছেন পলাশ আকন্দ। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে আলেশা মার্টের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বিধায় ঢাকা এসেছি শুধু আলেশা মার্টের খোঁজ নেয়ার জন্য। দুপুরের দিকে এ অফিসের সামনে এসেছি। এসে দেখি আমার মতো অনেক গ্রাহক বসে আছেন। এখানে যারা এসেছেন সবার একই অভিযোগ। কেউ পণ্য পাচ্ছেন না; আবার টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও দুই মাস পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে ইভ্যালি বন্ধ হওয়ার খবরে পরিবার থেকেও গালমন্দ শুনতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের টাকা জালিয়াতি করছে। না বুঝে বিনিয়োগ করে বিপদে পড়েছি। সরকার কেন এমন প্রতারকদের ব্যবসার সুযোগ দিচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। কাউকে ব্যবসার সুযোগ না দিলে তো আমরা এভাবে লোকশানের মুখে পড়তাম না। সরকার তাদের ব্যবসার অনুমতি দিয়েছে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করছে না। এটা কোনোভাবেই উচিত না।’

এদিকে খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশের ই-কমার্সে যে সম্ভাবনা ছিল, তা হোঁচট খাচ্ছে। গ্রাহকদের আতঙ্ক বাড়ছে, আস্থার জায়গা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ব্যবসা করছে তাতে মানুষের অভিজ্ঞতা খারাপ হচ্ছে, যা ই-কমার্সের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। সরকার নীতিমালা করেছে, শুধু নীতিমালা করলে হবে না। এর বাস্তবায়ন ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তারা বলেন, শুধু আলেশা মার্ট বা ইভ্যালি নয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে গ্রাহকগুলো ক্রয় করত তারা সবাই এখন আতঙ্কের মধ্যে আছে। মানুষের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। এর বিপরীতে সরকার তাদের কী শাস্তি দেবে? গ্রাহকদের টাকা কীভাবে ফেরত দেয়া হবে, সে বিষয়েও সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে দেশে এসব প্রতারণা বাড়বে।

জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কেউ যদি মামলা করে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন কেউ যদি লোভে পড়ে কাউকে টাকা দেয়, সরকার সেটিকে কীভাবে দমন করবে? ইভ্যালি নিয়ে যখন মামলা করা হলো সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হলো। এখন কেউ প্রতারিত হয়েও যদি অভিযোগ না করে, তাহলে কারও কিছু করার থাকে না। কেউ অভিযোগ করলে সরকার অবশ্যই সেসব অভিযোগ আমলে নেবে এবং অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সর্বশেষ..