বিশ্ব বাণিজ্য

আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ চায় চীন উদ্বেগে এশিয়ার অর্থনীতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে আরেকটি মন্দার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোয় উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশেষত এশিয়ার দেশগুলোয় কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে। এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বাণিজ্য আলোচনার সফলতা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে বলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার চীন বলেছে, চলমান উত্তেজনার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নির্ভর করছে ওয়াশিংটন অনূকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে কি না তার ওপর। খবর: বিবিসি, রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে কালোমেঘ জমা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ বাজারের পরিস্থিতিই এখন নি¤œমুখী। তবে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে তেমন প্রভাব না পড়লেও নেতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে হংকং ও সিঙ্গাপুরের মতো অর্থনীতিগুলো এখনই ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যবিরোধের অংশ হিসেবে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে পাঁচ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করেছেন। চীন সাত হাজার ৫০০ কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি পণ্যে শুল্কারোপ করার পর হোয়াইট হাউস ওই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চীন আশা প্রকাশ করে বলেছে, বাণিজ্য উত্তেজনা কমিয়ে নিয়ে আসতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্রস্তাবিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন।
জাও ফেং বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো আলোচনার জন্য উভয় পক্ষের প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ সময় তিনি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে চীনও তার পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। তবে বেইজিং শান্তভাবে বিষয়টির সমাধান চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
গত সোমবার দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের ফলে বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়ছে এবং সেখানে অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন। পরে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হে বলেন, ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে চীন একটি সমঝোতায় আসতে চায়। দু’দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিউ।
এদিকে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিবিসির বিশ্লেষণী প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অঞ্চলের শীর্ষ অর্থনীতি চীনে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক দুই শতাংশ, যা ১৯৯০ সালের শুরুর দিকের পর সবচেয়ে ধীর।
এশিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি জাপানেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। দেশটির বৈদ্যুতিক পণ্য ও গাড়ির সরঞ্জাম রফতানির ক্ষেত্রে চাহিদা কমেছে। অবশ্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে জাপানের প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রত্যাশা ছিল শূন্য দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধির।
ভারতের সর্বশেষ প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি পাঁচ দশমিক আট শতাংশ, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ভারতে জুলাইয়েই গাড়ি বিক্রি কমেছে ৩১ শতাংশ। হংকং, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতেও রফতানি, প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ..