বিশ্ব বাণিজ্য

আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেই চীনা পণ্যে মার্কিন শুল্ক কার্যকর

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার মধ্যে গতকাল রোববার থেকে ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানিতে ১৫ শতাংশ হারে মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এতে বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যই শুল্কের আওতায় এসেছে। চলতি বছর শেষে ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ থেকে শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার মার্কিন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে তা কার্যকর হলো। চীনও পাল্টা শুল্কারোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে আলোচনার সম্ভাবনা আর থাকছে না, বরং আরও তীব্র হচ্ছে। খবর: বিবিসি ও রয়টার্স।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা ভোগ্যপণ্যে শুল্কারোপ এড়াতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন শুল্কে চীন থেকে আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের দুই-তৃতীয়াংশই শুল্কের আওতায় এলো। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা ৮৭ শতাংশ বস্ত্র ও পোশাক এবং ৫২ শতাংশ পাদুকায় শুল্ক বসল। বছরের শেষের দিকে দ্বিতীয় দফায় আবারও শুল্ক কার্যকর হলে সব আমদানি করা চীনা ভোগ্যপণ্যে মার্কিন শুল্ক বসবে।
ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাণিজ্য বিবাদ নিরসনে চলতি সেপ্টেম্বরে মার্কিন ও চীন প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। এখন মার্কিন কর্মকর্তারা চীনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, তারা কার্যকর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রভাবে নি¤œমুখী ধারায় থাকা বাজার ঘুরে দাঁড়াতে থাকে। কিন্তু নতুন দফায় শুল্ক আরোপ করায় এ আলোচনা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে আরও অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে নতুন করে শুল্কারোপ করা হতে পারে। এর পরিকল্পনার কিছু অংশ কার্যকর হলো। বাকি অংশের মধ্যে সেলফোন, ল্যাপটপসহ কিছু পণ্যের ওপর শুল্কারোপ আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় কার্যকর হতে পারে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ছুটির সময়ের বিক্রিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। এর মধ্যেই গত মাসে নতুন করে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

সর্বশেষ..