বিশ্ব সংবাদ

আলোচনা ব্যর্থ ভারতে জোরদার হচ্ছে আন্দোলন

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ভারতে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি সংগঠনগুলোর সঙ্গে গত মঙ্গলবার আলোচনায় বসেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সরকার আইন বাতিলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বরং কমিটি গঠন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। অন্যদিকে কৃষকরাও তাদের দাবিতে অনঢ়। তাই আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক হবে। এদিকে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকদের আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে। দিল্লিতে ঢোকার আরও একটি রাস্তা গতকাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দল ভারি করতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে আরও কৃষক এসে পৌঁছেছেন, অনেকে এখনও আসছে। খবর : পিটিআই ও এএনআই।

কৃষকদের কাছে কমিটি গঠন করে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিল সরকার। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলো সেই প্রস্তাব মেনে নেয়নি। কারণ, তাদের মতে, এটা সময় নষ্ট করার একটা প্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়। কৃষকদের দাবি, সরকারকে নতুন আইন আগে বাতিল করতে হবে। আর ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য নিয়ে আইন করতে হবে, যাতে বেসরকারিভাবে যারা কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনেন, তারা এ আইন মানতে বাধ্য থাকেন।

দিল্লির সীমানায় ট্রাক, ট্র্যাক্টর, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কৃষকরা বিক্ষোভ-অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে দুই মাসের খাবার রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে নিজেদের ক্ষেতের খড়। রাতে ট্র্যাক্টরের ওপর খড় বিছিয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ছেন।  দিল্লির এ প্রচণ্ড ঠাণ্ডাতেও কেউ ঘুমাচ্ছেন রাস্তাতেই।

উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কেরালা ও রাজস্থান থেকে আসা কৃষকরা  প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষকদের এ প্রতিবাদের মুখে সরকার আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তারা এখন কোনোভাবে কৃষকদের আন্দোলন বন্ধ করার ও সময় নষ্টের মনোভাব নিয়েছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। তাই তারা সরকারের ওপর চাপ বিন্দুমাত্র কম করতে রাজি নন।

গতকাল পশ্চিম উত্তর প্রদেশ থেকে কৃষকদের একটা বড় দল এসে দিল্লি ও নয়ডার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি, বাইক, স্কুটার নিয়ে যারা যাতায়াত করেন, তারা যেন ডিএনডি ফ্লাইওভার ও কালিন্দী কুঞ্জের রাস্তায় না আসেন। কারণ, সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে ঢোকার দুটি রাস্তা আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে দিল্লি ঢোকার অন্যতম প্রধান রাস্তাও আংশিক বন্ধ। ফলে দিল্লিতে ঢোকার তিনটি রাস্তা পুরো ও একটি আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। আর গোটা দুয়েক রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে দিল্লিতে ঢোকার অধিকাংশ প্রধান রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে। দিল্লি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।

কৃষকরা শুধু যে দিল্লিতে এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এবং তাতে সারা দেশে কৃষকদের কাছে একটা সরকারবিরোধী বার্তা পৌঁছচ্ছে তাই নয়, হরিয়ানা ও রাজস্থানে এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। মোদি সরকার যদি কৃষকদের দাবি না মানে এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তা হলে হরিয়ানায় রাজ্য সরকারের পতন হয়ে যেতে পারে।

রাজস্থানে বিজেপির শরিক হনুমান বেনিওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষকদের দাবি মানতেই হবে। না হলে, কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণœ হবে। কৃষকদের প্রতি মোদি সরকার যে ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ তিনি গোপনও রাখেননি। ফলে বিজেপির শরিক দলগুলোর মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। 

বিরোধী দলগুলো কৃষকদের পাশে থেকে সরকারকে আক্রমণ করছে। কংগ্রেসের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘মোদি সরকারকে ধিক্কার জানাই। তারা কৃষকদের প্রতি যে সংবেদনহীন ব্যবহার করেছে, তা ভাবা যায় না।  কৃষকরা কৃষি আইনের বিরোধিতা করছেন। আমরা সবাই তাদের পাশে আছি।’ বামেদের কৃষক সংগঠনও এ বিক্ষোভে শামিল। তাদের ছাত্র ও যুব সংগঠনও কৃষকদের সঙ্গে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। যোগেন্দ্র যাদবের স্বরাজ পার্টিও বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। কংগ্রেসও এ বিক্ষোভকে পুরোপুরি সমর্থন করছে। বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমে পড়ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..