নিজস্ব প্রতিবেদক : আফগানিস্তানের কোম্পানি হেজাজ লিমিটেডে ওষুধ রপ্তানির কার্যাদেশ পেয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসএমই প্ল্যাটফর্মের কোম্পানি আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। কোম্পানিটি এরই মধ্যে ৭০ হাজার ৯৬০ ইউএস ডলারের একটি চালান আফগান কোম্পানিটির কাছে রপ্তানি সম্পন্ন করেছে।
গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে ওষুধ খাতের কোম্পানিটি। কোম্পানির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস হেজাজ লিমিটেডের কাছ থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ ডলারের পণ্য রপ্তানির কার্যাদেশ পেয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী, আংশিক চালান পাঠাতে গত ১৩ অক্টোবর থেকে পণ্য উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর কথাও জানিয়েছিল কোম্পানিটি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানিটি ডিএসইকে জানিয়েছিল, তারা হেজাজ লিমিটেডে রপ্তানির জন্য ৭০ হাজার ৯৬০ ডলার মূল্যের ওষুধ চট্টগ্রাম বন্দরে সরবরাহ করেছে। ওই রপ্তানির বিপরীতে কোম্পানি ইতোমধ্যে এক্সপোর্ট ফরম (এক্সপো ফরম) গ্রহণ করেছে এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আগাম রপ্তানি মূল্য হিসেবে পুরো অর্থ বুঝে পেয়েছে।
গতকাল ডিএসইকে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের কোম্পানিটির কাছে ৭০ হাজার ৯৬০ ডলারের পণ্য রপ্তানি সম্পন্ন করেছে, যার বিল অব লেডিং নং অখগউইঘঋ২৫৯৬৬।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সাল থেকে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই রপ্তানি সম্পন্ন করে পুরো অর্থ বুঝে পেয়েছে।
কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা দুই কোটি চার লাখ। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৬৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
গতকাল রপ্তানি সম্পন্নের তথ্যে কোম্পানির শেয়ারদর এক টাকা বা প্রায় চার শতাংশ বেড়ে ২৮ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ২৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৪৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
আল মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন। তিনি আল মদিনা গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানও এবং এই গ্রুপটি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন পাটোয়ারী। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মো. কামরুল আলম।
জানা গেছে, আল মদিনা গ্রুপের অধীনে ১৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আল মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) অনুসরণ করে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করে। কোম্পানিটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২৩ সালে। কারখানা গাজীপুরের টঙ্গিতে।
২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য এক শতাংশ লভ্যাংশ রয়েছে। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১ দশমিক ২০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন। উদ্যোক্তারা প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে শূন্য দশমিক ১০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন।
২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে শূন্য দশমিক ৫৮ টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল শূন্য দশমিক ৮৭ টাকা। আলোচ্য সময়ে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬১ টাকা।
ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে সম্প্রতি কোম্পানিটির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। গত আগস্টের শেষ দিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও মূলধনবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে। এতে উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক একেএম ফারুক আলম এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম প্রামাণিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তদন্তে আল-মদিনা ফার্মার কারখানা ও প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম ছাড়াও হিসাব বই, ব্যাংক লেনদেন, বিনিয়োগ ও বিভিন্ন রেকর্ড খতিয়ে দেখার কথা ছিল। বিশেষভাবে নজর দেওয়ার কথা ছিল কিউআইও থেকে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহারের দিকে। তাছাড়া রিলেটেড পার্টি ট্রান্সজেকশন বা সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন, নগদ অর্থ ও অব্যবহƒত তহবিলের সঠিক হিসাব এবং প্রসপেক্টাস অনুযায়ী অর্থের ব্যবহার হয়েছে কি না সেদিকে নজর দেওয়ার কথা ছিল।
তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদন আকারে প্রকাশের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে কোনো পরবর্তী পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ট্রেজারি বিল বন্ডে সুদহার অনেক কমার পরও ১০ শতাংশের বেশি সুদ মিলছে। এখানে মুনাফার ওপর কোনো কর দিতে হয় না। যথাসময়ে ফেরতের নিশ্চয়তা কিংবা সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রি করে যে কোনো সময় টাকা ভাঙানো যায়।
প্রিন্ট করুন


Discussion about this post