প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আশুগঞ্জ আইসিটি নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে আড়াই গুণ

ইসমাইল আলী: ২০১০ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদন পায় আশুগঞ্জ ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) নির্মাণ প্রকল্প। তবে ভারতের সঙ্গে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা সম্প্রসারণে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও আট বছরে এর কাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। সরকারি দুই সংস্থা জমি না দেওয়ায় প্রকল্পটি বিলম্বিত হতে থাকে। সেজন্য সংশোধন করা হচ্ছে প্রকল্পটি। এতে আইসিটি নির্মাণ ব্যয় প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে যাচ্ছে।

তথ্যমতে, আশুগঞ্জ আইসিটি নির্মাণে সংশোধিত প্রস্তাবনা এরই মধ্যে চ‚ড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গত মাসে পরিকল্পনা কমিশনেও পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পর্যালোচনায় গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দেখা যায়, ২০১০ সালে আশুগঞ্জ আইসিটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা। আর নতুন হিসাবে এ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আইসিটি নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে ৬০৪ কোটি টাকা বা ২৪৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

সূত্র জানায়, মূলত খাদ্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় জমি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আশুগঞ্জে আইসিটি নির্মাণে একপ্রকার বিপাকে পড়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। ফলে বাধ্য হয়ে নকশায় আনা হয়। এতে ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গত বছরের জুন মাসে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলেও আশুগঞ্জ আইসিটি প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক শেয়ার বিজকে বলেন, জমি সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। রেলওয়ে ও খাদ্য মন্ত্রণালয় জমি না দেওয়ায় বেসরকারি খাত থেকে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এতে শুধু জমি অধিগ্রহণেই ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা যায়, ২০০৯ সালে আন্তদেশীয় নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভারতের এলওসির আওতায় আশুগঞ্জ নদীবন্দরে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে মোতাবেক একের পর এক মন্ত্রী, সচিব, ভারতীয় হাইকমিশনারসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। একাধিক সংস্থা কয়েক দফা জরিপ চালায় ও জেলা প্রশাসন থেকে কয়েক দফা প্রস্তাবিত জমির সম্ভাব্য মূল্যও পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। তবে জমি দিতে রাজি হয়নি রেলওয়ে ও খাদ্য মন্ত্রণালয়।

আশুগঞ্জ আইসিটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ৩৫ একর জমির প্রয়োজন। এর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৯ দশমিক ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ এবং খাদ্য অধিদফতরের চার দশমিক পাঁচ একর, রেলওয়ের তিন দশমিক ৮৫ একর ও আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যালের তিন দশমিক ১৯ একর দীর্ঘ মেয়াদে লিজ নেওয়ার কথা ছিল। ২০১৩ সালের মার্চে খাদ্য অধিদফতর চার দশমিক পাঁচ একর জমি বিআইডবিøউকে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দিতে সম্মতও হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। একইভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ও তাদের তিন দশমিক ৮৫ একর জমি না দেওয়ার কথা জানিয়ে দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাত থেকেই ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। বাকিটা আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি তিন একর জমি লিজ দেবে। বাকি দুই একর বিআইডবিøউটিএর নিজস্ব জমি ব্যবহার করা হবে। সব মিলিয়ে ৩৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে আশুগঞ্জ আইসিটি।

এদিকে নতুন প্রস্তাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে দুই বছর। আগামী বছর জুনে এটি নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যদিও বাস্তবে তা আরও বেশি লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জমি অধিগ্রহণেই এক থেকে দেড় বছর সময় লেগে যেতে পারে। আর আইসিটি নির্মাণে আরও তিন বছর লাগবে। সব মিলিয়ে আইসিটি নির্মাণে কমপক্ষে পাঁচ বছর লেগে যাবে।