প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আশুলিয়ায় সাড়ে সাতশ শ্রমিকের নামে মামলা আটক ১৯

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সাভারের আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটিতে সাড়ে সাত শতাধিক শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে। এদিকে বুধবার রাতে শ্রমিক নেতাসহ আরও ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে এ নিয়ে ১৯ জনকে আটক করলো আশুলিয়া থানা পুলিশ। খবর বিডিনিউজ।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম শামীম হাসান জানান, বুধবার হা-মীম গ্রুপ কর্তৃপক্ষ পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। একই দিন উইন্ডি অ্যাপারেলস লিমিটেড ও ফাউনটেন গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ ২৪৯ শ্রমিকের বিরুদ্ধে উসকানি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুটি মামলা করে। এছাড়া বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ১২১ শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করে উইন্ডি কর্তৃপক্ষ। মামলা হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামগড়া এলাকা থেকে মাসুদ ও বাকের নামের দুই শ্রমিক এবং পরে পাঁচ শ্রমিক নেতাকে আটক করে। এরপর গভীর রাতে আরও দুই শ্রমিক নেতা ও ১০ শ্রমিককে আটক করা হয় বলে আশুলিয়া থানার ওসি মহসিনুল কাদির জানান।

আটকদের মধ্যে সাত শ্রমিক নেতার পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেনÑগার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশ, গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, স্বাধীন বাংলা গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আল কামরান, সাধারণ সম্পাদক শাকিল ও বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শামীম খান, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির (বিসিডব্লিউএস) আশুলিয়ার সংগঠক মো. ইব্রাহিম ও টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের আহ্বায়ক মো. মিজান।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু জানান, গভীর রাতে জামগড়া এলাকা থেকে তাদের সংগঠনের ছয়জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে তাদের পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। শ্রমিক নেতাদের আটকের খবরে সাধারণ শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই গ্রেফতারের ভয়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবিতে সোমবার আশুলিয়ায় ২৫ কারখানা শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরই মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী, নৌমন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। মঙ্গলবার কাজ বন্ধ থাকে ৫৫ কারখানায়। বিভিন্ন সংগঠনের শ্রমিক নেতার পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা আন্দোলনে সমর্থন না দিলেও শ্রমিকরা নিজেরাই সংগঠিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।  বিষয়টি ধরেই শ্রম শ্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোনো একটা পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের ক্ষতি করতে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে অবৈধ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই ৫৫ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, শ্রমিকরা যতদিন কাজে যোগ না দেবেন, ততদিনের বেতন তারা পাবেন না। বিজিএমইএর ওই সিদ্ধান্ত বুধবার থেকেই কার্যকর করা হয়। বুধবার সকালে কারখানায় এসে নোটিস দেখে ফিরে যান বন্ধ কারখানাগুলোর অনেক কর্মী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয় আশুলিয়ায়। সে সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইপাইল থেকে জিরাব পর্যন্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও আর্মড পুলিশের টহল চলতে থাকে। বৃহস্পতিবারও তা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে শিল্প পুলিশ-১-এর পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, যে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।