সম্পাদকীয়

আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে বাড়ি নির্মাণ কাজ অনেকাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য যথোপযুক্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাড়ি হস্তান্তরের পর নির্মাণজনিত নানা অনিয়ম-অভিযোগ উঠে এসেছে। নওগাঁর নিয়ামতপুরে ১৪৪টি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণে এসব অভিযোগ বিভিন্ন যুক্তিতে কর্তাজনেরা আমলে না নিলেও সরেজমিনে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই বরাদ্দকৃত অর্থের পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে না। এসব অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সুশাসন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
১৯৯৭ সালে কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড়কবলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় সহানুভূতিশীল হয়ে প্রধানমন্ত্রী যে আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেন, তার পরিণতি এতটা শোচনীয় হওয়া লজ্জাজনক ব্যাপার। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৬টি পরিবারের পুনর্বাসন পরিকল্পনার মধ্যে এরই মধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার ৩৩৬টি পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া ও হস্তান্তরের প্রায় এক মাসের মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ উঠল। নওগাঁর নিয়ামতপুরের নির্মিত ঘরগুলোর ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে যাওয়া, পায়খানা বানানোর কথা থাকলেও কেবল সেনেটারি রিং সরবরাহ করা, নিম্নমানের সামগ্রীতে তৈরি করা পিলার এরই মধ্যে ভেঙে যাওয়া, দরজা-জানালায় ফাটল, দোকানের ঝাঁপসদৃশ জানালা প্রস্তুত ও তাতে শিশুর হাতে ভেঙে যেতে পারে এমন শিক ব্যবহার এবং টিনের ছাউনিতে জোরাতালি দেওয়া রুয়ার কাঠ ব্যবহারের মতো চিত্র কখনোই প্রমাণ করতে পারে না প্রতিটি বাড়িতে বরাদ্দকৃত এক লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই প্রকল্পে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রতিটি বাড়িতে বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণ খরচের দাবি করছেন। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি বরাদ্দকৃত অর্থেই নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ব্যবহারকারীর ভুলে পিলার ভেঙে গেছে, যা বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অধিকন্তু, বকশিস হিসেবেও দুস্থদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে, যা অমানবিক। উপরন্তু, মালপত্র বহন ও মিস্ত্রিখরচ বাবদও তারা দুস্থদের কাছ থেকে সাত-আটশ টাকা আদায় করেছে। এমনকি হস্তান্তরের পরও বৃষ্টির পানি রোধে ব্যবহারকারীদের মেরামতে খরচ করতে হয়েছে। এসব অস্বচ্ছতা বাড়ির হাল-হকিকতের সঙ্গেই দৃশ্যমান। কিন্তু অভিযোগ যদি আমলে না নেওয়া হয়, তবে তার তদন্তেও কোনো সুবিচার হওয়ার সুযোগ থাকে না।
দুদর্শাগ্রস্ত ও ছিন্নমূলের অধিকার সুরক্ষায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে অভিযোগগুলোর সুবিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রজন যথাযথ উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..