সারা বাংলা

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প নিয়ামতপুরে বাড়ি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, নওগাঁ: নওগাঁর নিয়ামতপুরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে বাড়ি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘর বুঝে দেওয়ার মাসখানেকের মাথায় ঘরের ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। এছাড়া পায়খানা তৈরি করে দেওয়ার কথা থাকলেও শুধু সেনেটারি রিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বকশিসের কথা বলে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আট ইউনিয়নের মধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন পরিবারের জন্য ১৪৪টি আধাপাকা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা। এ ঘর বরাদ্দ থেকে শুরু করে ঘর তৈরিতে নানা অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে পিলার তৈরি করা হয়েছে। ঘর নির্মাণ শেষ না হতেই পিলার ভেঙে গেছে। দরজা, জানালার কাঠে ফাটল দেখা দিয়েছে। জানালার পাল্লা করা হয়েছে দোকানের ঝাপ প্রকৃতির। আর যে রড দেওয়া হয়েছে তা কোনো শিশু সামান্য টান দিলেই খুলে আসবে। ঘরের টিনের ছাউনিতে রুয়ার যে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে তা একাধিক জোড়া দেওয়া। ঘরের মালপত্র বহন খরচ, মিস্ত্রি খরচসহ সব খরচ বরাদ্দ হতে করা কথা থাকলেও প্রত্যেক ঘরমালিকের কাছ থেকে ৭০০-৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
ঘর পাওয়া রোকেয়া বেগম জানান, যেভাবে ঘর করে দেওয়া হয়েছে তাতে বৃষ্টি হলে ঘরে থাকতে পারেন না। ঘরের মালামাল নিয়ে আসা গাড়ির ড্রাইভার ও মিস্ত্রিরা ৭০০ টাকা নিয়েছে। টিনের বেড়ার নিচ দিয়ে ঢোকা পানি বন্ধ করতে দুই বস্তা সিমেন্ট কিনতে হয়েছে এবং নিজেদেরই পায়খানা তৈরি করতে হয়েছে।
এ প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হলেও পূরো কাজের খরচ ও দেখভাল করেছেন প্রকল্পের সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। তরিকুল ইসলাম জানান, সরকারি নিয়ম মোতাবেক সব বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। নিম্নমানের বাড়ি তৈরির করার বিষয়টি সঠিক নয়। কোনো ধরনের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারিয়া পেরেরা জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। পিলার ভেঙে-ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ব্যবহারকারীর ওপর নির্ভর করছে। আর্থিক অভিযোগ সঠিক নয়। যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল সে পরিমাণ অর্থই ব্যয় করে কাজ করা হয়েছে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..