স্পোর্টস

আসল লড়াইয়ের আগে তামিমদের দুর্দান্ত জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক: দলে নেই সেরা তারকা সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলার পর থেকেই ছুটিতে আছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। দেশ ছাড়ার আগে চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দলের দুই সেরা তারকাকে হারিয়েও শ্রীলঙ্কা সফরের শুরুটা মন্দ হলো না বাংলাদেশের। প্রস্তুতি ম্যাচে দল তুলে নিয়েছে দুর্দান্ত এক জয়।
যদিও বড় চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ। যদিও বাংলাদেশ দল সুযোগ দেয়নি স্বাগতিকদের। আসল লড়াইয়ের আগে দাপুটে এক জয় তুলে নিয়েছে তামিম ইকবালের দল।
গতকাল মঙ্গলবার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচটি পাঁচ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ উড়িয়ে দিয়ে তারা করে ৮ উইকেটে ৫০ ওভারে ২৮২ রান। তারপর জবাবে নেমে ৪৮.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।
বড় সংগ্রহের সামনে নেমে তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকারের ব্যাটে শুরুটা ভালোই ছিল সফরকারীদের। দলীয় ৪৫ রানে সাজঘরের পথ ধরেন সৌম্য (১৩)। এরপর তামিম ৪৭ বলে ৩৭ রানে ফিরলে চাপে পড়ে টাইগাররা। তবে তখনই হাল ধরেন মোহাম্মদ মিঠুন আর মুশফিকুর রহিম। দুজন গড়েন ৭৩ রানের জুটি। পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ শেষে ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা মুশফিকুর রহিম সাজঘরে ফেরেন ঠিক ৫০ রানে। ৪৬ বলের ইনিংসে ছিল ছয় বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। তবে লড়াই করে গেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন এ ব্যাটসম্যান। কিন্তু ৯১ রানে এসে ভুল করলেন। ১০০ বলে ১১ বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় এই ইনিংস খেলেন তিনি। এর আগেই অবশ্য ৩৩ রান তুলে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
এরপর বাকিটা পথ পাড়ি দেন সাব্বির রহমান (৩১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫)। ১১ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার লাহিরু কুমারা নেন দুটি উইকেট।
এর আগে অবশ্য হতাশা আর বাংলাদেশের বোলিং। দুটো শব্দই যেন একে অপরের সমার্থক। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় ছন্নছাড়া বোলিংকে। অন্য বিভাগে মোটামুটি আশার আলো জ্বললেও পুরো সময়ই অন্ধকারে ছিল টাইগারদের ধারহীন বোলিং। শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে নিজেদের ঝালাই করার ম্যাচেও কাঠগড়ায় তাসকিন-মিরাজদের পারফরম্যান্স।
বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান সংগ্রহ করেছে শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশ। তাইজুল ইসলাম, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদি হাসান মিরাজ ছাড়া প্রত্যেকের ঝুলিতেই আছে অন্তত একটি করে উইকেট। তবে প্রাপ্তিটা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
বিশ্বকাপে মাশরাফির মূল বোলারদের ব্যর্থতাকে আড়াল করে রেখেছিলেন সৌম্য সরকার। গতকাল তামিমের দলেও তারকা বোলারদের ভিড়ে সেরা কিন্তু সেই সৌম্য। তার পারফরম্যান্স অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। কিন্তু প্রতি ম্যাচেই যদি তাকেই ব্রেক থ্রু এনে দিতে হয়, তাহলে পার্টটাইম বোলার বলাটাও সাজে না। দলের ভরসা জাগানিয়া বোলারদের ব্যর্থতার বৃত্তে ভরসার কেন্দ্র হচ্ছেন এই ওপেনার ব্যাটসম্যান। তার ব্যাটিংয়ের ভঙ্গুর পারফরম্যান্সের পেছনেও হয়তো এই বোলিংয়ের অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে কি না, ভেবে দেখা দরকার। গতকালও তিনি ছয় ওভারে ২৯ রান খরচায় নিয়েছেন দুটি উইকেট।
প্রশংসা কিছুটা করতে হয় রুবেল হোসেনের। প্রথমেই দুটি উইকেট তুলে নেন এই পেসার। তারপর তাসকিনও দ্রুতই গুনাতিলাকাকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু তারপর আর কই? মুস্তাফিজকেও দেখা গেল না স্বরূপে। মোসাদ্দেক, মিরাজ ও তাইজুল তো ফিরেছেন শূন্য হাতে। ফরহাদ রেজা একটি উইকেট পেলেও তার বোলিংয়ে কোনো বৈচিত্র্য দেখা যায়নি।
প্রস্তুতি ম্যাচে ৯ জন বোলারকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক তামিম। প্রথম ৩০ ওভারে স্বাগতিক দলের সংগ্রহ ছিল পাঁচ উইকেটে ১৩২ রান। এমন অবস্থায় বাংলাদেশি বোলাররা তো চেপে ধরার কথা প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। উল্টো দেখা গেল টাইগার বোলারদের বিপক্ষেই ব্যাট চড়াও করেছে লঙ্কান একাদশ। শেষ ২০ ওভারে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ১৫০ রান যোগ করেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। সর্বশেষ ২৮২ রানে থামে তাদের ইনিংস।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিনিয়তই শিখছেবাংলাদেশ দল। তাতে কোনো সন্দেহও নেই। কিন্তু শ্রীলঙ্কান একাদশের বিপক্ষেও বোলারদের নৈপুণ্য শঙ্কা জাগাল।এবার আসল লড়াই। ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। তারপর ১ আগস্ট ফিরেআসবে দেশে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..