মার্কেটওয়াচ

আস্থা অর্জনকারী আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে

বাজারের গতিশীলতা বাড়াতে প্রয়োজন বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জন করা। অথচ সেটি না করে শুধু নিয়ম-নীতির মারপ্যাঁচের মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। তারা ইচ্ছামতো নিয়মনীতি তৈরি করে। বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কাজ হবে কোম্পানিগুলো যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেগুলো যেন বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জন করতে পারে সেদিকে নজর দেওয়া। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সমকালের বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন এবং ঢাকা কনসালটিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ, এফসিএ।

জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজার হতাশাজনক অবস্থায় চলছে। এটি নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। একাধারে কমছে সূচক ও লেনদেন। সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। আবার বিদেশি বিনিয়োগকারীও কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাচ্ছেন না। এছাড়া মানি মার্কেটে চলছে তারল্য সংকট। এর প্রভাব বাজারেও লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মোট বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ২৮ লাখ। এর মধ্যে পাঁচ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে না এবং ১০ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট শূন্য ব্যালেন্সে রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা হতাশায় রয়েছেন। 

সাব্বির আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে মুষ্ঠিমেয় কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা বাজারসংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি অনেক বোঝেন। তারা নিজেদের মতো করে তা ব্যবহার করেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এখন ধারণা হয়েছে, এখানে বিনিয়োগ করলে তারা বিভিন্ন কৌশলে অর্থগুলো নিয়ে যাবে। এ কারনে বিও অ্যাকাউন্ট কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তাও কমে গেছে। এটাই প্রধান সমস্যা। আবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারে  জোর দেওয়া হচ্ছে। আসলে যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় না হবেন, ততক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আসবে না। কারণ তারা লাভের জন্যই বাজারে আসবেন। বিনিয়োগকারীরা যত বেশি সক্রিয় থাকবেন তত বেশি শেয়ারের দর বাড়বে। তখনই তারা লাভের মুখ দেখবেন। দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগোচ্ছে, সেভাবে পুঁজিবাজার গতিশীল না হলে বেশিদূর এগোনো যাবে না। তাই বাজারের গতিশীলতা বাড়াতে প্রয়োজন বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জন করা। অথচ সেটি না করে শুধু নিয়মনীতির মারপ্যাঁচের মধ্যে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাদের মতো করে নিয়মনীতি তৈরি করে। বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কাজ হবে কোম্পানিগুলো যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেগুলো যেন বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জন করতে পারে। এ বিষয়টি যতক্ষণ নিশ্চিত করা না যাবে, ততক্ষণ বাজার এভাবে চলতে থাকবে।

       শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..