সম্পাদকীয়

আস্থা ফিরে পাক ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলো

রাজধানী ঢাকায় যখন ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তিতে বাংলালায়ন, কিউবিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সার্ভিস দেওয়া শুরু করে, তখন অনেকে বলেছিলেন এ প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। গ্রাহকরা এ থেকে কতটুকু উচ্চমানের সেবা পাবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। এর কিছুদিনই পরই ওলো নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের সেবা দেওয়া শুরু করে। ফলে কারও কারও ধারণা হয়েছিল, ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলো গ্রাহকের আস্থা অর্জনে সমর্থ হবে; নইলে ব্রডব্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিতে এতগুলো কোম্পানির বাজারে আসার কথা নয়। ওয়াইম্যাক্সের লাইসেন্স নেওয়া সব কোম্পানি কিন্তু ব্যবসা করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত বাংলালায়ন ও কিউবি টিকে আছে, তাও নামমাত্র। গতকালের শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানি দুটো গত চার বছরে প্রায় চার লাখ গ্রাহক হারিয়েছে। ২০১২ সালে দুটো কোম্পানির মোট গ্রাহক ছিল যেখানে চার লাখ ৬৭ হাজার, সেখানে ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ৯৫ হাজার। এর অন্যতম কারণ ইন্টারনেট সংযোগে ধীরগতি এবং ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। লোকাল ব্রডব্যান্ড যেখানে মাসে ৪০০ টাকায় আনলিমিটেড ইন্টারনেট সরবরাহ করছে, সেখানে ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলোর ১০ গিগাবাইট ডেটার জন্য খরচ করতে হচ্ছে ভ্যাট ছাড়াই ন্যূনতম ৮০০ টাকা। এসব কোম্পানির মডেমের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে তরুণ প্রজšে§র অনেকে আস্তে আস্তে মোবাইল ডেটার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলো খারাপ সময় পার করছে বলা যায়।

প্রতিবেদনটিতে একটি ওয়াইম্যাক্স কোম্পানির কর্মকর্তা তাদের নেটওয়ার্ক দুর্বল বলে স্বীকার করে প্রযুক্তিও যে দুর্বল, সেটি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অন্য কোম্পানিটি ইন্টারনেট ব্যবহারের চার্জ কমানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। আমরা মনে করি, এক-দুটো ক্ষেত্রে সংস্কার করে এ ব্যবসায় আগের অবস্থানে ফিরে আসা কঠিন হবে। এজন্য প্রথমেই জানা দরকার ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলোর কাছে গ্রাহকের প্রত্যাশা কী। কোম্পানি দুটোকে একই সঙ্গে যেমন ইন্টারনেট ব্যবহারের চার্জ কমাতে হবে, তেমনি বাড়াতে হবে নেটওয়ার্কও। যেখানে যেখানে নেটওয়ার্ক আছে, সেগুলোকেও শক্তিশালী করতে হবে। অপরদিকে নেটওয়ার্কে সমস্যা হলে কোম্পানি দুটো থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় নাÑএমন অভিযোগও শোনা যায়। গ্রাহক যদি সন্তুষ্ট না থাকেন, তাহলে যত উদ্যোগই নেওয়া হোক না কেন, তাতে কোনো লাভ হবে না। শুরুতে ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলো শুধু বড় কয়েকটি শহরে সার্ভিস দিয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে আর বাড়েনি। তাদের গ্রাহকসংখ্যা না বাড়ার এটিও একটি বড় কারণ। দেশের প্রতিটি জেলায় তাদের যেতে হবে, যদি সত্যিকার অর্থে এ ব্যবসায় ভালো করতে চায়। সব প্রতিকূলতা দূর করে গ্রাহকের দিকে মনোযোগী হয়ে ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলো পুনরায় ব্যবসায় ফিরে আসুক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..