বিশ্ব সংবাদ

ইইউর সঙ্গে আর বাণিজ্য আলোচনা চায় না যুক্তরাজ্য

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবস্থান না বদলালে তাদের সঙ্গে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্য আর আলোচনা চায় না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট গত শুক্রবার এ আলোচনার ‘ইতি ঘটেছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এখন ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্য-চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়।

১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট বলছে, অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বিস্তারিত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে ইইউ আলোচনা করতে প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত আগামী সপ্তাহে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আর কোনো অর্থ নেই। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বাণিজ্য আলোচনার এখানেই ইতি ঘটেছে। ইইউ কার্যত আলোচনার সমাপ্তি ঘটিয়েছে। একে অপরের সঙ্গে আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে যদি ইইউ’র অবস্থানে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসে।’

এর আগে শুক্রবার সকালের দিকে ব্রাসেলসে ইইউ কাউন্সিলের সম্মেলনে নেতাদের উদ্দেশে এক ভিডিও বিবৃতিতে জনসন বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যকে কানাডা-ধাঁচের একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার প্রস্তাব ইইউ না দিলে এ বছর শেষে যুক্তরাজ্য কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইবে।

ওদিকে, ইইউ বলেছে, তারা আরও আলোচনা করতে ইচ্ছুক। একটি চুক্তিতে পৌঁছতেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু তা যে কোনো মূল্যে করতে রাজি নয়। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল বলেছেন, একটি চুক্তি করাটাই সবচেয়ে ভালো হবে এবং দু’পক্ষেরই কিছু আপস করার প্রয়োজন পড়বে।

তবে দুই পক্ষ এখনও একটি চুক্তি করতে চায়। এ প্রক্রিয়া ভেঙে পড়েনি। চুক্তিতে পৌঁছার সময় এখনও আছে। যুক্তরাজ্য আলোচনার ‘ইতি’ টানার ঘোষণা দিলেও আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, এমন ইঙ্গিত দেয়নি।

ইইউর বর্তমান সভাপতি দেশ জার্মানির ইইউ সংক্রান্ত মন্ত্রী মিশায়েল রোট মঙ্গলবার বলেন, চুক্তির জন্য ইইউ যথেষ্ট পরিশ্রম করছে। তবে প্রয়োজনে চুক্তি ছাড়াই ২০২১ সাল থেকে ইইউ ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্য চলবে। রোট বাকি ২৬টি দেশের মন্ত্রীদের বলেন, বিরোধের মূল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত চুক্তি সম্ভব না হলে পরিস্থিতি সামলাতে ইইউ আরও পদক্ষেপ নেবে। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলও মঙ্গলবার সবার স্বার্থে চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের প্রস্তুতির কথাও বলেন তিনি।

ব্রিটেনের জলসীমায় মাছ ধরার অধিকারের বিষয়টি কেন্দ্র করে ইইউর মধেও জোরালো তৎপরতা চলছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিটেনকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে ফ্রান্স। উল্লেখ্য, সে দেশের জেলেদের একটা বড় অংশ এতকাল ব্রিটেনের জলসীমায় মাছ ধরে এসেছে। মাছ ধরার অধিকারের বিষয়টি গোটা চুক্তির ভবিষ্যৎ বিপন্ন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফ্রান্স কড়া অবস্থান নিলেও ১ জানুয়ারি থেকে দু’পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যের পথে বাধা এড়াতে একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার পক্ষে সুপারিশ করছে ইইউর বেশকিছু দেশ। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী অগ্রগতির যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলে প্রয়োজনে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আলোচনা চলতে পারে। তার পর দুই পক্ষকেই ঠিক সময়ে সেই চুক্তির আইনি অনুমোদন করতে হবে, যাতে ১ জানুয়ারি থেকে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..