বাণিজ্য সংবাদ

ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছ থেকে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে। বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেওয়া বাণিজ্য সহযোগিতা কাজে লাগছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ ও নিরাপত্তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্ট মেম্বাররা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশ সফররত ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের চারজন মেম্বারসহ আট সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ও তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকদের সম্পর্ক খুব ভালো। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেওয়া পরামর্শ মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন কর্মবান্ধব ও নিরাপদ গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। কারখানা কমপ্লায়েন্স করতে মালিকদের বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, তবে তৈরি পোশাক ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াচ্ছেন না। পোশাকের দাম বাড়ানো প্রয়োজন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশ গত বছর ৩৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এর ৫৪ ভাগ অর্থাৎ ১৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রফতানি করেছে। ইউরোর অবমূল্যায়ন না হলে এ রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতো ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পরামর্শ এবং আইএলও’র বিধান অনুযায়ী শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শ্রমিকদের দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি কারখানার ৩০ শতাংশ শ্রমিক চাইলে একটি ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন। ইপিজেডে শ্রমিকরা ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠনের মাধ্যমে তাদের অধিকার ভোগ করছেন। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার এ খাতের শ্রমিকদের ৩৩৬ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছে, সরকারি কর্মচারীদের মতো পাঁচ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন, পাঁচ বছর পর নিয়ম মোতাবেক নতুন পে-কমিশন গঠিত হবে।

সফররত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডেলিগেশন প্রধান আর্নি লিয়েট সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইবিএ’র আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইইউ চায় শ্রম আইন মোতাবেক বাংলাদেশের শ্রমিকরা অধিকার ভোগ করুক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সন্তোষজনকভাবে কাজ করেছে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ অব্যাহত রাখতে হবে, আরও বেশি কাজে করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সন্তোষজনক।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু, প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে ইইউ পার্লামেন্টের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন লিনডা এমসিএ ভ্যান, এসঅ্যান্ডডি ডেভেলপমেন্ট কো-অডিনেটর নরবার্ট নিউসার, এসঅ্যান্ডডি এনআইটিএ এগনেস জনজিরিয়াস ও ঢাকায় ইইউ অ্যাম্বাসেডর পিয়েরি মায়াডোন উপস্থিত ছিলেন।

 

সর্বশেষ..