বিশ্ব বাণিজ্য

ইইউ’র সঙ্গে সমঝোতা হলেও ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে শঙ্কা

শেয়ার বিজ ডেস্ক:ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের বৈঠকের আগে দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা এ সমঝোতায় পৌঁছান। ইইউ সামিট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এ সমঝোতা হয় বলে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার জানিয়েছেন। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিরোধিতায় এ চুক্তি পার্লামেন্টে পাস হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর: রয়টার্স, বিবিসি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক টুইট বার্তায় সমঝোতায় পৌঁছানোর খবর জানিয়ে বলেছেন, ‘পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে দারুণ একটা সমঝোতায় পৌঁছেছি আমরা।’ তার এ ঘোষণার পর ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্যমান বেড়েছে প্রায় এক শতাংশ। ইউরোর বিপরীতেও পাউন্ডের মান বেড়েছে। অবশ্য চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ইইউ পার্লামেন্টে অনুমোদন পেতে হবে।

এর আগে চুক্তির কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্তে না আসা পর্যন্ত এ পরিকল্পনা সমর্থন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি। পার্লামেন্টে চুক্তি পাস করার জন্য উত্তর আয়ারল্যান্ডের এ দলটির সমর্থন বরিস জনসনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ইইউ’র বাকি ২৭ দেশ এ চুক্তিতে সমর্থন জানাবেন বলে জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার আশা প্রকাশ করেছেন।

ডিইউপি জানিয়েছে, একটি যুক্তিসংগত চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংশোধিত খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে খুশি নয় ডিইউপি। এক যৌথ বিবৃতিতে ডিইউপি’র নেতা ও তার সহকারী বলেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে কিছু বিষয় এখনও থেকে যাওয়ায় তারা এতে সমর্থন করতে পারছেন না। কাস্টম ও এ-সংক্রান্ত ইস্যু এবং ভ্যাট নিয়ে অস্পষ্টতা থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

দলটির শীর্ষ দুই নেতা আর্লেন ফস্টার ও নাইজেল ডড আরও বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের জন্য একটি যুক্তিসংগত প্রস্তাবে পৌঁছানোর জন্য আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া এ চুক্তিতে অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক অখণ্ডতা রক্ষা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্রেক্সিট চুক্তি সম্ভব করতে ব্রিটেন ও ইইউ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। উভয় পক্ষ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী হলেও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবল বিরোধিতার মধ্যে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রেক্সিট কার্যকর করতে ব্রিটেন ও ইইউ প্রতিনিধিরা গত মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছেন।

অসমর্থিত সূত্র অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডে দুই পক্ষের স্থলসীমান্তে নিয়ন্ত্রণ এড়াতে ব্রিটেনের উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশকে কোনোভাবে ইইউ’র শুল্ক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্গত রাখার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদিও এর বিভিন্ন দিক নিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের দলটির আপত্তি রয়েছে।

কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি শিবির ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জোটসঙ্গী ডিইউপি দল প্রবল বিরোধিতা করছে। সেক্ষেত্রে শনিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের জন্য জনসনকে বিরোধী পক্ষের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইইউ’র সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ডের জন্য ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার পথে অগ্রসর হয়েছিলেন।

সংসদে বিচ্ছেদ চুক্তি অনুমোদন করাতে না পারলে আইন অনুযায়ী বরিস জনসনকে ব্রেক্সিটের সময়সীমা পেছানোর আবেদন করতে হবে। এখন পর্যন্ত তিনি এ পদক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করে এসেছেন।

সর্বশেষ..