দিনের খবর বিশ্ব সংবাদ

ইইউর হুইস্কি রপ্তানিতে শুল্ক প্রত্যাহারে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র মধ্যে চুক্তি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্কচ হুইস্কি জাতীয় মদ রপ্তানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্কটল্যান্ডের স্কচ হুইস্কি শিল্প স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। এর আগে বোয়িং এবং এয়ারবাসের ভর্তুকির জেরে যুক্তরাষ্ট্রে হুইস্কি রপ্তানিতে ট্যারিফ আরোপ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ এ বিষয়ে এক চুক্তিতে একমত হয়। ফলে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ইউরোর হুইস্কি রপ্তানিতে বাধা কাটল। খবর: বিবিসি, আল জাজিরা।

২০১৯ সালে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন তার দেশে হুইস্কি রপ্তানিতে পাঁচ বছরের জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তখন যুক্তরাজ্যও ইইউর সদস্য ছিল। ফলে ওই সময় শুল্কারোপে যুক্তরাজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দ্য স্কটস হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশনের ধারণা, শুল্কারোপের ফলে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গত ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের হুইস্কি রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে; যা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের সমান।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কারেন বেটাস বলেন, শুল্ক প্রত্যাহারের চুক্তির ফলে পরবর্তী মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়বে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় এবং মূল্যবান বাজার।

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় প্রত্যাশা ছিল ইউএস-ইইউ সম্পর্ক পুনরায় জোরা লাগবে। আর তা স্বাভাবিক হতে তেমন সময় নেননি বাইডেন।

গত মার্চেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন এয়ারবাস-বোয়িংয়ের শুল্কারোপের বিষয়ে সাময়িকভাবে ঐকমত্যে পৌঁছাবেন। গত সপ্তাহে জি-৭-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য যান জো বাইডেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্যে পৌঁছান। এরপর ব্রাসেলস গিয়ে ইইউ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছান জো বাইডেন। ফলে প্রত্যাশানুরূপ ফল আসে উভয় পক্ষ থেকে। এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বাইডেনের বৈঠকের পর যুক্তরাজ্যোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিজ ট্রাস এবং মার্কিন বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধি ক্যাথরিন টাই পাঁচ বছর মেয়াদি শুল্কমুক্ত চুক্তিতে সম্মত হন। 

চুক্তির পর যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেন, আজকের চুক্তির খসড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের পরবর্তী পর্যায় ক্ষতি পুষিয়ে নেবে। একই সঙ্গে চীনের মুক্তবাণিজ্য অর্থনীতি থেকে শক্তিশালী বাণিজ্য পরিণত হবে।

এয়ারবাস-বোয়িংয়ের দ্বন্দ্ব অবসান: যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে  অভিযোগ করে, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম ভঙ্গ করে ইইউ এয়ারবাসকে ভর্তুকি সুবিধা দেয়। এরপর ইইউও বোয়িং বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন এয়ারবাসের ওপর ট্যারিফ আরোপ করে। যেখানে এয়ারবাসের সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হারায়।

অন্যদিকে ইউরোপ বোয়িংয়ের ওপর পাল্টা শুল্কারোপ করলে বোয়িংয়ের চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়; যা ১৭ বছর আগের আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ এ ট্যারিফ প্রত্যাহারে সম্মত হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..