সারা বাংলা

ইউজিসির উম্মুক্ত শুনানিতে যাবেন না রাবি ভিসি!

প্রতিনিধি, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ডাকা উম্মুক্ত শুনানিতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপাচার্য। গত মঙ্গলবার উপাচার্য নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ ১৭টি বিষয়ে শিক্ষকদের একাংশের দেওয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এ শুনানি ডাকা হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে কর্তৃত্ববিহীন তদন্ত কমিটির তদন্ত বন্ধ করতে অনুরোধ করেছি। কারণ ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠন করার এখতিয়ারই নেই। কমিটি গঠনে কমিশনের যে অ্যাক্ট, সেই অ্যাক্টে এই ক্ষমতা নেই। তা ছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন করতে হলে উপাচার্যের মর্যাদার একধাপ ওপরের পদমর্যাদার সদস্যদের দিয়ে করতে হবে। যেহেতু ইউজিসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে এর ব্যত্যয় ঘটেছে, সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দেন ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী শিক্ষক চারজনের প্রতিনিধি দলকে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে শুনানির জন্য ডেকেছে। শুনানির এই আয়োজনকে অভিযোগকারী শিক্ষকরা স্বাগত জানান। রাবি ভিসি এম আবদুস সোবহান নিজেও পত্র মারফতে ইউজিসিকে ভার্চুয়ালি না করে সরাসরি উম্মুক্ত শুনানির বিষয়ে সম্মতি দেন।

তবে গত ৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির ডাকা গণশুনানিকে বেআইনি, আদালত অবমাননাকর ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্বের শামিল বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান।

এদিকে ইউজিসির চেয়ারম্যান বরাবর উপাচার্যের পাঠানো চিঠিকে স্ববিরোধিতা বলে মনে করছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা। তারা বলছেন, উপাচার্য নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে তদন্ত কমিটি করেছে।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের একজন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী। তিনি বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান আমার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন হেকেপের লাইব্রেরি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে। কমিটিতে যারা ছিল সবাই আমার জুনিয়র। অথচ এখন উপাচার্য নিজের বেলায় এসে পদমর্যাদার বিষয়টি সামনে আনছেন, যা স্ববিরোধিতা।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, ক্রপ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগর, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক জিন্নাত আরা ও সোলাইমান চৌধুরী।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..