দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ইউনাইটেডের লাইসেন্স বাতিল চেয়ে রিট

আগুনে পুড়ে পাঁচ রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে চিকিৎসাধীন রোগীসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে রিট আবেদনে ওই পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

গতকাল সুপ্রিমকোর্টের ব্যারিস্টার রেদোয়ান আহমেদ রানজীব ও ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে। এর আগে ২৭ মে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এসি বিস্ফোরণে পুড়ে মারা যান পাঁচ রোগী। তারা হলেনÑরিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন এন্থনি পল (৭৪), মনির হোসেন (৭৫) ও মো. মাহাবুব (৫০)। তারা সবাই হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, আগুনে পুড়ে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা রিট আবেদনে ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চেয়েছি। রিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে রোগীসহ মারা যাওয়া পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন হত্যা মামলা দায়ের করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানায়, ২৭ মে রাতে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, এখানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ওইভাবে ছিল না। কিন্তু ইউনিটের কাছেই ফায়ার হাইড্রেন্ট ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বোধ হয় ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবহার করতে পারেনি। তদন্তের পর কারণ বলা যাবে।

অবশ্য হাসপাতালের কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ডা. সাগুফা আনোয়ার দাবি করেন, বৈদ্যুতিক শট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি বলেন, আগুন লেগেছে হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে। করোনা রোগীদের জন্য পাঁচ শয্যার একটি আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে মূল ভবনের বাইরে একটি একতলা ভবনে। সেখানে চারজন রোগী ভর্তি ছিলেন। রাতে হঠাৎ সেখানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে।

অপরদিকে, ঘটনার পরদিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের ফায়ার ইকুইপমেন্ট মেয়াদোত্তীর্ণ। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে হাসপাতালের গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবশ্যই মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে তিনজনের করোনা পজেটিভ। রোগী স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের গাফিলতি আর প্রচুর পরিমাণ দায্য পদার্থ থাকায় আগুনে রোগীরা পুড়ে মারা গেছে। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়নি। মৃতদেহ আটকে রেখে লাখ টাকার বেশি বিল নেওয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন। এছাড়া কয়েকজন রোগীর স্বজন অভিযোগ করেছেন, আগুনে পাঁচ রোগী মারা যাওয়ার পর সেখানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতাল থেকে চলে যেতে অনবরত চাপ দিচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ভেন্টিলেশন থেকে রোগী বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুনের ঘটনা ধাপাচাপা দিতে রোগীর স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধু এ আগুনের ঘটনা নয় বিভিন্ন সময় এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুসহ নানা অভিযোগ এসেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..