বাণিজ্য সংবাদ

ইউ-পাস এলসির মেয়াদ ৩৬০ দিন চায় রুবি ফুড প্রোডাক্টস

আমদানিকৃত পণ্যের পাওনা পরিশোধ

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম

সাধারণত ইউ-পাস এলসির মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের পাওনা পরিশোধে সময় থাকে ১৮০ দিন। এতে এলসি খোলা থেকে প্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্য বিক্রি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগে বলে এ সুবিধা আমদানিকারকরা পান। এ সময়ের মধ্যে আমদানি করা পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করতে হয়। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড অবকাঠামোগত সংকট ও জটিলতা দেখিয়ে এ ধরনের এলসির পাওনা পরিশোধে ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৩৬০ দিন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর আবেদন করে। যদিও ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মনগড়া কারণ দেখিয়ে অন্য উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ সুবিধা নিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।  

জানা যায়, খাতুনগঞ্জভিত্তিক ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রুবি ফুডস প্রোডাক্টস, যা চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বছরে আট থেকে ১০ লাখ টন গম, মটর, ছোলা, মসুরডাল, চাল, ভুট্টা ও তেলবীজসহ ভোগ্যপণ্য আমদানি করে থাকে। আর আমদানির পুরোটাই সমুদ্রপথে আনা হয়। এসব পণ্য পরিবহনে নানা ক্ষেত্রে জটিলতার শিকার হতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে থেকে বলা হয়, বিভিন্ন বন্দর থেকে আমদানি করা পণ্য নিয়ে মাদার ভেসেলগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। আর বহির্নোঙর থেকে লাইটার জাহাজ করে পণ্য খালাস করে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এক্ষেত্রে পণ্য জাহাজীকরণ থেকে পরিবহন পর্যন্ত সময় লাগে ১০০ থেকে ১২০ দিন। এর মধ্যে এলসি নেগোসিয়েশন হয়ে বন্দরে জাহাজ আসতে সময় লাগে ৪৫ থেকে ৬০ দিন এবং বন্দর থেকে পণ্য খালাসে সময় লাগে ৬০ থেকে  ৭৫ দিন। পাশাপাশি এসব পণ্য গুদামজাতকরণ ও কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করতে আরও ৬০ থেকে ৮০ দিন লাগে। আর প্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্য পুরোটাই বাকিতে বিক্রি করতে হয় বলে পাওনা আদায়ে সময় লাগে ৬০ থেকে ১২০ দিন। সুতরাং সব মিলিয়ে পণ্য বিক্রির টাকা নগদায়ন, অর্থাৎ টাকা ক্যাশ কনভারশন সার্কেলের সময় লাগে ২৪০ থেকে ৩৪০ দিন। এছাড়া খারাপ আবহাওয়া, বিভিন্ন ধরনের অবরোধ প্রভৃতি সমস্যাও থাকে।

ইউ-পাস এলসির বিষয়ে কয়েকজন সিনিয়র ব্যাংকার শেয়ার বিজকে বলেন, সাধারণত ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ইউ-পাস এলসি সুবিধা দেওয়া হয় না। যদি এসব পণ্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে এ সুবিধা দেওয়া হয়। এ সুবিধার আওতায় একজন আমদানিকারক পণ্যের মূল্য পরিশোধে ১৮০ দিন সময় পান। এটাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন করা নির্ধারিত সময়। যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আমদানিকারকের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কিছু সময় বাড়িয়ে দেয়। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আবেদনে সবার জন্য এ সুবিধা ৩৬০ দিন করা হয়, তবে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এ সুবিধার অপব্যবহারে হয়তো ঋণখেলাপি হবে, না হয় অর্থ পাচার করবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, বন্দর সীমানায় জাহাজ এলে দিনে দিনে খালাস করার সুযোগ আছেÑযদি আগে থেকেই সব ধরনের শুল্ক-কর পরিশোধ করে থাকে। এছাড়া এখন বন্দরে কোনো ধরনের জাহাজজট নেই। ফলে স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস হচ্ছে। ওই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য সঠিক নয়।

বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, আমাদের একটি এলসি হওয়ার পর পণ্য জাহাজীকরণ হয় ৪৫ দিন পর, জাহাজ আসতে সময় লাগে ৪০ দিন এবং জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে সময় লাগে ৫০ থেকে ৬০ দিন। আবার পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে লাগে আরও ১২০ দিন। আর বাকি পাওনা আদায়ে লাগে ৬০ থেকে ১২০ দিন। ফলে টাকা নগদ হতে ৩৪০ দিনের বেশি লাগে। এ ধরনের ভোগান্তির কারণে ইউ-পাস এলসির মেয়াদ ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৩৬০ দিন করার জন্য আবেদন করেছি।

অপরদিকে ব্যাংকাররা বলছেন, ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৩৬০ দিন মেয়াদ করা হলে অর্থের অপব্যবহার কিংবা ফান্ড ডাইভার্ট হবেÑএ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যাংকার তো তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বলবেন। ভারী শিল্পের এলসির মতো আমাদের খাতে ৩৬০ দিন মেয়াদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি।           

রুবি ফুডস প্রোডাক্টসের চিঠির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, যে কেউ আবেদন করতে পারেন। এটা তার অধিকার। আর চিঠির বিষয়বস্তুর যৌক্তিকতা থাকলে অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। এ বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। কিছু হলে তো আপনারা জানবেন।

সর্বশেষ..