কোম্পানি সংবাদ

ইওএস টেক্সটাইলের শেয়ার অধিগ্রহণ করল শাশা ডেনিমস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৮০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি শাশা ডেনিমস লিমিটেড। আর ইওএস টেক্সটাইলের ৮০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য ১২১ কোটি সাত লাখ ৩৮ হাজার ২৫৩ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে দেয়। এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ বাবদ ৯৬ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ৬০২ টাকা পরিশোধ করেছে শাশা ডেনিমস। আর গত রোববার রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মের (আরজেএসসি) মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ঢাকা ইপিজেডে অবস্থিত বিশ্বের স্বনামধন্য ইতালিভিত্তিক টেক্সটাইল কোম্পানি বার্তোই জি ইন্ডাস্ট্রিয়া টেসিলিএসআরএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৪০ শতাংশ শেয়ার কেনার জন্য শাশা ডেনিমস লিমিটেড ও ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের মধ্যে রাজধানীর গুলশানে ওয়েস্টিন হোটেলে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরে কোম্পানিটির পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪০ শতাংশের পরিবর্তে ৮০ শতাংশ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উল্লিখিত পরিমাণ শেয়ার কেনার অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করে অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে শাশা ডেনিমস লিমিটেড।

এদিকে গতকাল এ কোম্পানির শেয়ারদর দুই দশমিক ২৪ শতাংশ বা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৭ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার দর হয় ২৭ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৩টি শেয়ার ৫৮৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ৫৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৮ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। গত এক বছরে শেয়ারদর ২৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৬৬ টাকায় ওঠানামা করে।

৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা পাঁচ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৪৭ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে চার টাকা ৫২ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ১৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, পুরাতন বিমানবন্দর সড়কের ট্রাস্ট মিলনায়তনে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

একই সঙ্গে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আর গত বছরের তুলনায় এ বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩৯ পয়সা, আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৭১ পয়সা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে এক টাকা ৩২ পয়সা। এছাড়া ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮৬ পয়সা, যা ২০১৯ সালের ৩০ জুনে ছিল ৪৬ টাকা ৪৭ পয়সা। কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২২৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১২৭ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ১২ কোটি ৭৯ লাখ ২৩ হাজার ৭২৯টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকের কাছে রয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ১৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর এক দশমিক ১২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪২ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..