বিশ্ব সংবাদ

ইতালির পর মহামারির পরবর্তী কেন্দ্র হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ডব্লিউএইচও

শেয়ার বিজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারির পরবর্তী কেন্দ্র হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গতকাল মঙ্গলবার এ হুশিয়ারি দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। খবর: বিবিসি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেন, ‘আমরা দেখছি, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে। তাই দেশটি বৈশ্বিক এ মহামারির পরবর্তী কেন্দ্র হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।’

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৯৩৫ ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৭৮৪ ছাড়িয়েছে।

এদিকে স্পেনের পরিস্থিতি আরও বাজে আকার নিয়েছে। মঙ্গলবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য যথেষ্ট স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম তাদের হাতে নেই। মঙ্গলবার সকালে এক টুইটে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘মাস্ক ও ভেন্টিলেটরের বৈশ্বিক বাজার অভাবনীয় পর্যায়ে রয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোকে চিকিৎসা সরঞ্জাম পেতে আমরা সাহায্য করছি; কিন্তু এটি সহজ নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা যখন তাদের নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিকই পাগলাটে বক্তব্য দিচ্ছেন। গত সোমবার তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ শাটডাউন থাকার জন্য সৃষ্টি হয়নি।’ তিনি একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থনীতিকে পুরোদমে চালু করা হবে বলে মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরুর পর  মঙ্গলবার অনেক সমঝে বক্তব্য রেখেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। সেখানে প্রতি দিন আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও।

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার রাত থেকে দেশজোড়া ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন। যদিও গত রোববার থেকেই দেশের অধিকাংশ রাজ্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে দিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই ভারতের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত নিউজিল্যান্ডও গোটা দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী এক মাস এই লকডাউন বলবৎ থাকবে। অস্ট্রেলিয়া আরও কড়া পদক্ষেপ নেবে বলে সেখানকার প্রশাসন জানিয়েছে।

এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল জি২০ বৈঠকে বসছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে উপস্থিত থাকবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। গতকাল বুধবার টুইট করে নিজেই সে কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়েই মূলত আলোচনা হবে এ ভার্চুয়াল বৈঠকে। আলোচনা হতে পারে করোনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা নিয়েও।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..