প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ:পুঁজিবাজার ও ইউরো মুদ্রায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

 

শেয়ার বাজার ডেস্ক: সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোটে শোচনীয় হারের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও  রেনজি। আর এ ঘোষণার পর ইউরোর দর ও পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। খবর রয়টার্স, বিবিসি।

পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা কমিয়ে আনতে রোববার ইতালিতে গণভোট হয়। সব বিরোধীদল সংবিধান সংশোধনের বিপক্ষে ছিল।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরএআইয়ের বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, ৪২ থেকে ৪৬ শতাংশ ভোটার প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির ডাকে সাড়া দিয়ে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন; বাকি ৫৪ থেকে ৫৮ শতাংশ ভোটার তাকে ‘না’ বলে দিয়েছেন।

এরপর গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী রেনজি। তিনি বলেন, ভোটের ফল তিনি মেনে নিয়েছেন; এখন বিরোধীদের একটি স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে সামনে আসতে হবে।

গণভোটে ইতালির প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের আভাসে রোববার ইউরোর দাম কমে ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছায়। ডলারের বিপরীতে রোববার ইউরোর দাম ২ দশমিক ০৫০৫ শতাংশ হয়, যা প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম।  তবে সোমবার লেনদেনের শুরুতে তা আবার ঘুরে দাঁড়ায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম ছিল ১ দশমিক ০৬৫৫ শতাংশ।

এদিকে রোববার নিম্নমূখী ধারায় লেনদেন শেষ করলেও সোমবার বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লন্ডনের এফটিএসি সূচক ৩৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ছয় হাজার ৭৬৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। রোববার দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ২২ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৭৩০ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করেছিল সূচকটি। এছাড়া জার্মানির ডিএএক্স সূচকও ১৮০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বেড়ে গতকাল ১০ হাজার ৬৯২ পয়েন্টে পৌঁছায়। আগের দিন ২০ পয়েন্ট হারিয়ে ১০ হাজার ৫১৩ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। এদিকে ফ্রান্সের সিএসই গতকাল ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজার ৫৯৩ পয়েন্টে পৌঁছায়। আগের দিন সূচকটি ৩১ পয়েন্ট হারিয়ে লেনদেন শেষ করেছিল।

প্রতিবেদন মতে, দায়িত্ব নেওয়ার আড়াই বছরের মাথায়  রেনজির এ পদত্যাগেরর ফলে ইউরো জোনের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়তে পারে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ধীরগতি নিয়ে সমালোচনার মুখে এনরিকো লেত্তার পদত্যাগের পর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী হন ৩৯ বছর বয়সী মাত্তিও রেনজি। ইতালির ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে কম বয়সে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসেন।

মধ্য বামপন্থি রেনজির প্রতিশ্রুতির মধ্যে নির্বাচন পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কারের পাশাপাশি শ্রমিক ও কর ব্যবস্থাপনার সংস্কারের কথাও ছিল।

ইতালিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে নিতে আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য কমিয়ে আনার কথা বলেছিলেন তিনি। আর সেজন্যই সাংবিধানিক সংস্কার করে সিনেটের প্রভাব ও আঞ্চলিক প্রশাসনের ক্ষমতা কমিয়ে আনার প্রস্তাব ছিল তার।

কিন্তু বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য ছিল, ওই প্রস্তাব মেনে সংবিধান সংশোধন করা হলে বাস্তবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

ইতালির গণভোটের ফল ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদেরও অস্বস্তিতে ফেলেছে। ‘না’ এর জয়কে দেখা হচ্ছে জনগণের প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাবের নির্দেশক হিসেবে।

অভিবাসনবিরোধী নর্দান লিগের নেতা মাত্তিও সালভিনি এ ভোটের ফলকে বর্ণনা করেছেন ‘বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশের পরাক্রমের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়’ হিসেবে।

ভোটে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে রেনজি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলবেন এবং পরে প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তিনি বলেন, ‘ভাগ্য আমাদের সহায় হোক।’

তবে ইতালির প্রেসিডেন্ট চলতি মাসের শেষে বাজেট পাস হওয়া পর্যন্ত রেনজিকেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অনুরোধ করতে পারেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।