মার্কেটওয়াচ

ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। সবকটি সূচক ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি ৫২ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ৩৩ শতাংশের। লেনদেনের শুরু থেকেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বেলা ১১টার দিকে ছয় হাজার পয়েন্টে উঠে যায় সূচক। এরপর বিক্রি চাপে কিছুটা নামলেও আধঘণ্টা পর ফের বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বমুখী গতি অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বেশিরভাগ শেয়ারদর বেড়েছে। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসই৩০ ছাড়া বাকি সবগুলো সূচক ইতিবাচক ছিল। বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। তবে কোনো কোম্পানির বড় অংকের শেয়ার লেনদেন না হওয়ায় আগের দিনের তুলনায় লেনদেন ৯৪ কোটি টাকা কমেছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৩৩ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ছয় হাজার এক দশমিক ৫২ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক দুই দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩২৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে আর ডিএস৩০ সূচক আট দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ১৮১ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়ে চার লাখ ৯ হাজার পাঁচ কোটি ছয় লাখ ১০ হাজার টাকা হয়।

ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৫৮২ কোটি ৮৩ লাখ ১৫ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের দিন লেনদেন হয় ৫৩৬ কোটি সাত লাখ ছয় হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এদিন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ১৪ হাজার ১৩৩টি শেয়ার এক লাখ সাত হাজার ২৬ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৩টির, কমেছে ১১০টির, অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির দর।

টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বিবিএস কেবল্স্। ৩২ কোটি ৮১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৭টি শেয়ার লেনদেন হয়। গতকাল শেয়ারটির দর ৩০ পয়সা কমেছে। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল ইফাদ অটোস, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, আমরা নেট, এনবিএল, উত্তরা ব্যাংক, জিপি, রংপুর ফাউন্ড্রি ও আইডিএলসি। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শেয়ার লেনদেন হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের। কোম্পানিটির ৯৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৩টি শেয়ার ১২ কোটি ৫২ লাখ টাকায় লেনদেন হয়। শেয়ারটির দর ১০ পয়সা বেড়েছে। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল তুং হাই, এক্সিম ব্যাংক, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি, উত্তরা ব্যাংক, সিএন্ডএ টেক্স, প্রাইম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক।

১০ শতাংশ বেড়ে বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে তুং হাই নিটিং। ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়েছে মুন্নু সিরামিকের দর। এরপর ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ বাড়ে ফাইন ফুডসের। সাফকো স্পিনিংয়ের দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ ও মিথুন নিটিংয়ের দর বেড়েছে আট দশমিক ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে চার দশমিক ৮৮ শতাংশ দর কমে কে এন্ড কিউর। আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড চার দশমিক ২৫ শতাংশ, এসপি সিরামিকসের দর চার দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালের দর তিন দশমিক ৯৮ শতাংশ ও দেশ গার্মেন্টসের দর তিন দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৪৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ২৩৯ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৫৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল দিনজুড়ে ২৩৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৩৫টির দর বেড়েছে; কমেছে ৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির দর।

সিএসইতে এদিন ৩৩ কোটি ২৭ লাখ সাত হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১২৭ কোটি ৮৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৯৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে উত্তরা ব্যাংক এক কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর বিবিএস কেবল্স্ এক কোটি ৬৯ লাখ, আমরা নেট এক কোটি ৬২ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংক এক কোটি ৩৫ লাখ, এনবিএল এক কোটি ২১ লাখ, প্রাইম ব্যাংক এক কোটি আট লাখ, জিপি এক কোটি সাত লাখ, ওয়ান ব্যাংক এক কোটি, এনসিসি ব্যাংক ৯৯ লাখ ও সিটি ব্যাংকের ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

 

 

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..