মত-বিশ্লেষণ

ইতিবাচক মনোভাবকে জোরালো করুন

নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কভিড-১৯) বিশ্বজুড়ে পারিবারিক জীবন এলোমেলো করে দিয়েছে। সময়ে শিশুসন্তানের প্রতি আলাদা মনোযোগ দিতে হয়। তাদের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হয়, তাদের বোঝাতে হয় প্রজ্ঞার সঙ্গে। কভিডকালে শিশুকে কীভাবে গুণগত সময় দেবেন, তা ঠিক করুন। 

ইতিবাচক মনোভাবকে জোরালো করুন: প্রশংসার সঙ্গে শক্তির জায়গাগুলোকে জোরালো করুন এবং তারা যা করতে পারে না, সেগুলো তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের সক্ষমতাকে উৎসাহিত করুন। শিশুদের কেবল তখনই সহায়তা করুন, যখন এটি তাদের প্রয়োজন হয়। খুব বেশি সহায়তা তাদের স্বাধীন হয়ে ওঠার সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং তারা সব সময়ই সহায়তা পেতে থাকবে, এমন ধারণা তাদের মাঝে তৈরি হতে পারে।

রুটিন জোরদার করুন: রুটিন শিশুদের সুরক্ষিত ও নিরাপদ বোধ করতে সহায়তা করে। আরও তথ্যের জন্য ‘গোছালো হওয়া’ অংশটি দেখুন। আপনার সন্তানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়, এমন কার্যক্রম-সংবলিত একটি রুটিন তৈরি করুন এবং এতে তাদের পছন্দের কিছু কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করুন।

আপনার শিশুকে ফোন চ্যাট, কার্ড লেখা বা ছবি আঁকার মাধ্যমে বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সহায়তা করুন।

আপনার সন্তানকে কাজের ক্ষেত্রে বিকল্প বাছাইয়ের সুযোগ দিন, যাতে বিষয়টি যে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এমন ধারণা তাদের মধ্যে তৈরি হয়। এটি একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। যেসব শিশুর সহজ ভাষা ও সুস্পষ্ট নির্দেশাবলি এবং কথা না বলে যোগাযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করুন (উদাহরণস্বরূপ: অঙ্গভঙ্গি, ছবি ও ভিজুয়াল সহায়তা)।

কিশোর-কিশোরীদের প্রতিপালন: কিশোর-কিশোরীরা স্কুল, বন্ধু ও তাদের সামাজিক জীবনের অভাব বোধ করতে পারে। তারা যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে, সেজন্য তাদের বাড়তি সমর্থন ও সুযোগ প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।

কিশোর সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান: বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগের সৃজনশীল উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে বার্তা লেখা বা ছবি আঁকা। একসঙ্গে পছন্দের একটি খাবার রান্না করুন। তাদের প্রিয় গান একসঙ্গে অনুশীলন করুন। এমন কিছু নিয়ে কথা বলুন, যা তাদের পছন্দ; যেমন খেলাধুলা, সংগীত, বিখ্যাত ব্যক্তি ও বন্ধু।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..