ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

পাঠকের চিঠি

পৃথিবীতে যা কিছু কল্যাণকর, তার বিপরীত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে করেছে গতিময় ও মসৃণ। দুঃসাধ্য কাজকে হাতের নাগালে এনে দিয়েছে। পৃথিবীকে গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রামে রূপান্তরিত করেছে ইন্টারনেট। পুরো পৃথিবীর মানুষকে একটি গ্রামের মানুষের মতো একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট এই যুগের মানুষের কাছে রথী-মহারথী। জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব সুযোগ-সুবিধা সহজেই ভোগ করছে মানুষ। বহু দূরের আপজনের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে। অডিও, ভিডিও ও ভয়েস কল আপনাকে সামনাসামনি কথা বলার মতোই অনুভূতি দেবে।

এই করোনাকালে পুরো পৃথিবীতে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ। চাকরিজীবীরা বাসা থেকেই তাদের কোম্পানি বা অফিসের কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে ক্লাস করছে। অ্যাসাইনমেন্ট সাবমিট করা, প্রজেক্ট সাবমিট করাÑসবকিছুই বাসা থেকে করছে শিক্ষার্থীরা। স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো, ইউরোপের ফুটবল লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন লিগ প্রতিনিয়ত বাসায় বসে দেখছে বিলিয়ন বিলয়ন দর্শক। এসব সম্ভব হয়েছে একমাত্র ইন্টারনেটের বদৌলতেই। ইন্টারনেটের হাজারো সুবিধার মাঝে কিছু অসুবিধাও আছে। মানুষ এখন ইন্টারনেটকে অসাধুভাবে ব্যবহার করছে। ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছে ইন্টারনেট। সাইবার বুলিং থেকে শুরু করে নগ্নতা সবকিছুই ইন্টারনেটের নেগেটিভ দিক। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে এর অপব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। বাবা-মা নিজেরা প্রযুক্তি না জানায় বিধিনিষেধের মাধ্যমে সন্তানদের এর ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে চান, বরং উল্টো হওয়া উচিত। প্রযুক্তির ব্যবহারে সন্তানদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। শিশুদের বিপথগামিতার কারণ হচ্ছে অভিভাবকরা সন্তানদের গুণগত সময় দেন না; তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই। শিশুরা তাদের তথ্যগুলো অভিভাবকদের সঙ্গে শেয়ার করে না। অনলাইনে শিশুদের বিচরণের জন্য ইতিবাচক ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের অভাব রয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই শিশুরা অন্যদিকে ঝুঁকছে, পর্নোগ্রফি দেখছে। অনেক সময় শিশুরা কৌতূহল থেকেও এসব দিকে যেতে পারে; নির্যাতনের শিকার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য পরিবার প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করে। রাষ্ট্র কোনো ভূমিকা রাখে না। কেউ নির্যাতিত হলে কোথায় যাবে, কার কাছে বিচার পাবে, তা জানে না। রাষ্ট্র এ বিষয়ে সচেতন নয়। এদিকে নজর দিতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে যুগোপযোগী পাল্টাতে হবে। হাত-পা বেঁধে নয়, শিশুদের স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার উম্মুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।

ইন্টারনেটের অপব্যবহারের মাধ্যম বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কেলেঙ্কারিও ঘটেছে। কেউ জানতেও পারল নাÑবাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল। আমরা প্রায়ই দেখি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও ভারত আমাদের সাইবার আক্রমণ করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববদ্যালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ডাউন করে দেয়া হয়, যা ইন্টারনেটের অপব্যবহার। সাইবার যুদ্ধÑএই যুদ্ধে সবাই জিততে চায়। আর, ময়দানে কেউ হারতে নামে না। সবাই কোমর বেঁধেই নামে সাইবার যুদ্ধে। এই ইন্টারনেট অনেক বড় বড় সেলিব্রিটিকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে, আবার কেড়ে নিয়েছে হাজারো জীবন। বাসায় ওয়াইফাই কানেকশন না দেওয়ায় অনেক তরুণ-তরুণীর আত্মহননের খবর পাওয়া যায় মাঝেমধ্যেই। সম্প্রতি অনেককেই দেখা যায় ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে লাইভে এসে বা পোস্ট করে সুইসাইড করে। ফেসবুকের ট্রেন্ড। এই ট্রেন্ডে গা ভাসাতে গিয়েও অনেক প্রাণ অকালে ঝরে পড়ে। এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই প্রচুর মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীতে। ছোট ছোট শিশুও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে থাকে, বাদ পড়ে না সাকিবকন্যা আলাইনাও। অসুস্থ মস্তিষ্কের টিকটকারকেও দেখা যায় অশ্লীল লিরিক্সের গান দিয়ে বাচ্চাদের টিকটকে অভিনয় করাতে। অনলাইন গেমগুলোও নেশায় পরিণত হচ্ছে ইয়াং ছেলেমেয়েদের। বাসায় বাবা-মাকে বলপূর্বক গেমিং পিসি কিনে দিতে বাধ্য করা, কিংবা হাই র‌্যামের মোবাইল কিনে দিতে বাধ্য করাÑএ সবকিছুও ইন্টারনেটের অপব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত।

তাসনিম হাসান মজুমদার

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ


সর্বশেষ..