দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডিকে প্রাণনাশের হুমকি

জয়নাল আবেদিন: আর্থিক খাতের অনিয়ম ও প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের ঘটনায় উত্তপ্ত ছিল পুরো ২০২০ সাল। কারণ পিপলস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন পিকে হালদার। এবার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। টাকা ফেরতের তাগাদা দেয়ায় এমডিকে হুমকি দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের একজন ঋণখেলাপি গ্রাহক।

নিরাপত্তা চেয়ে গত বছরের (২০২০) ২ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি জিডি করেছেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের এমডি ড. মো. খালেক খান। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, “আমি (খালেক খান) ২০২০ সালের ১৫ জুন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করি। গত ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি ‘আই বিজনেস হোল্ডিং’ কোম্পানি আমাদের কোম্পানি থেকে ৩০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। বারবার তাগাদা দেয়ার পরও আমাদের প্রাপ্য ঋণের টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। বর্তমানে ওই কোম্পানির কাছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পাওনা টাকার পরিমাণ ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪২২ টাকা ৮১ পয়সা। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আই বিজনেস হোল্ডিংয়ের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করা হয়। এর কারণে আই বিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মিশুক আমাকে (খালেক খান) ২ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ফোন করে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ওইদিন রাত ৮টার মধ্যে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে বলেন তানভীর মিশুক। এর ব্যত্যয় ঘটলে ৬৪ জেলায় আমার নামে মিথ্যা মামলা করার হুমকি প্রদান করে। সেই সঙ্গে দুদকে মামলা করার ভয় দেখায়। তানভীর মিশুক বলতে থাকে, ‘আমার ক্ষমতার জোর কত আপনি জানেন না’।”

জিডিতে আরও বলা হয়, ‘আমি (খালেক খান) আমার প্রাণনাশসহ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ভয় পাচ্ছি। সুতরাং উপরোক্ত বিষয়ে আপনার অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে মিলিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) শেয়ার নামে-বেনামে কিনে প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নেন পিকে হালদার। এ চার প্রতিষ্ঠানের একটি এখন বিলুপ্তির পথে, বাকি তিনটিও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এখন পিকে হালদার পলাতক। আর আমানতকারীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন টাকা ফেরত পাওয়ার আশায়। প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা এখনও চলমান। এ বিষয়ে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া শেয়ার বিজকে বলেন, ‘গত মাসে খালেক খান একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..