দিনের খবর

ইপিজেডের বন্ডের কাপড় পাচার, কার্ভাড ভ্যানসহ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইপিজেডের বন্ডের কাপড় (শুল্কমুক্ত সুবিধার) খোলা বাজারে নেওয়ার সময় আটক করেছে কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ টীম। কুমিল্লা বিশ্বরোড় এলাকা থেকে প্রায় সাত টন কাপড়সহ কার্ভাড ভ্যান আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কমিশনার জানান, বহুদিন থেকে প্রকৃত কাপড় আমদানিকারকরা শুল্কমুক্তভাবে গার্মেন্টসের নামে আমদানিকৃত কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ করে আসছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে এ কাজে নগদ অর্থে গোপন সংবাদদাতা নিয়োজিত করে কুমিল্লা কাস্টমস ও ভ্যাট টীম।

## ভুয়া নিলামের কাগজের আড়ালে বন্ডের কাপড় খোলা বাজারে বিক্রির চেষ্টা

সংবাদদাতা ১২ আগস্ট ভোর ৪টা ২০ মিনেটে ফোন দিয়ে তথ্য দেয় যে, ইপিজেড থেকে গাড়ি বের হয়ে অন্য গাড়িতে মালামাল তুলে দেওয়ানহাট থেকে নতুন গাড়ি করে রওনা দিয়ে ভাটিয়ারি পার হয়েছে। এ চক্রটি অত্যন্ত চতুর, শক্তিশালী ও সংগঠিত বলে জানানোর প্রেক্ষিতে পণ্যসহ ট্রাকটি আটকে ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ সতর্কতা নিতে হয়।

নিবিড় তদারকি ও সফল অভিযানের জন্য কুমিল্লার নৈশ টহলরত টীমের সাথে সদর দপ্তরের আরো ৮জন কর্মকর্তা একাধিক টীমে প্রহরারত থাকে। শহরের ভেতরের রাস্তা, বিশ্বরোড, বিকল্প সকল পথে প্রতিনিধি নিয়োজিত রাখা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া টীমকে সজাগ রাখা হয়। মাঠের টীমগুলোকে কমিশনার সার্বক্ষণিক তদারকিতে রাখে।

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে কুমিল্লাতে এ ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক আনলোড করে অন্য ট্রাকে উঠিয়ে পার করা করার পূর্ব প্রবণতা ছিল। প্রভেন্টিভ টীমের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা ছিল। ফলে বাড়তি সতর্কতা ও টীম ভাগ করার প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রিভেন্টিভ টীম ভোর ৫টা থেকে বহুমুখী পাহারা দিতে থাকে। সকাল সাড়ে ৭টায় তথ্য অনুযায়ী কর্মকর্তারা গাড়ি সনাক্ত করে।

ভোর সাড়ে ৬টায় গাড়ি পৌঁছানোর কথা থাকলেও যৌথ প্রিভেন্টিভ সকাল ৮টায় গাড়ি কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, বিশ্বরোড পৌঁছায়। সংবাদদাতার সকল তথ্য যাচাই করা হয়। গাড়িচালক অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিল।

কর্মকর্তাদেরকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ২০১৮ সালের নিলামের কিছু ভুয়া কাগজপত্র দেখায়। অভিযোগের মিল পেয়ে কর্মকর্তারা গাড়িটি আটক করে। যা আসিফ ও আরিবা কার্গো সার্ভিস এর কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো নং-১৬-৯৪৮২) পরিবাহিত গাড়ি থেকে মালামাল আটক করা হয়েছে।

কমিশনার বলেন, গাড়িতে বন্ডেড ফেব্রিক্স ৫০০ রোল, ট্রাক রিসিট অনুযায়ী। পণ্যের পরিমাণ ৭৭০৫ কেজি, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩১ টাকা এবং পরিহারকৃত শুল্ককর ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫৪ টাকা। অর্থাৎ শুল্ক পরিশোধিত মূল্য দাঁড়ায় ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রকৃত কাপড় ব্যবসায়ীদের অভিযোগে বলা হয়েছিল, কৌশলে দীর্ঘদিন থেকে এ সংগঠিত গ্রুপটি বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানিকৃত ইপিজেডের কাপড় ২০১৮ সালের নিলামের কাগজ দিয়ে বিক্রি করে। গাড়িতে প্রাপ্ত কাপড়গুলো সেই নিলামের কাগজে বর্ণিত কাপড়ের চেয়েও কাপড় আরো উন্নতমানের। আটককৃত মালামাল বিভিন্ন সাইজের ও বিভিন্ন রংয়ের। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

কমিশনার বলেন, এদের শেকড় অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। ইপিজেড আমাদের রপ্তানি গর্বের দৃষ্টান্ত। গুটি কয়েক চোরকারবারির জন্য এর সুনাম নষ্ট হচ্ছে। অতিক্রম নয় ব্যতিক্রম প্রত্যয়ে জিরো টলারেন্সের আওতায় চলছে সাঁড়াশি অভিযান। এ বন্ডেড পণ্য বাজারে বিক্রির এমন আরো তথ্য আসছে।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..