দিনের খবর শেষ পাতা

ইফতার ও তাপদাহে বাড়ছে ফলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজানের প্রথম সপ্তাহে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও সব ধরনের ফলমূলের দাম বেড়েছে। বৈশাখের তপ্ত এ সময়ে ইফতারিতে দেশি-বিদেশি ফলমূল গ্রহণের পরিমাণ বাড়াচ্ছেন রোজাদাররা। এর ফলে বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ায় ফলের দাম বাড়ছে বলে মনে করেন বিক্রেতারা।

গতকাল রাজধানীতে মৌসুমি ফল তরমুজ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ৩৫ বা ৪০ এমনকি ৪৫ টাকায়ও। যদিও এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ২৫ টাকায় তরমুজ মিলছিল। দাম বাড়ার তালিকায় সম্প্রতি যোগ হয়েছে আরেকটি ফল মাল্টা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া আমদানি করা মাল্টা এখন ১৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ভালো মানের মাল্টা ১৬০ টাকায়ও বিক্রি করছেন।

কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতা মনজুরুল ইসলাম বলেন, রোজা যতদিন আছে তরমুজের চাহিদা ততদিন থাকবে। কিন্তু মওসুম শেষ হতে চলায় সরবরাহ কিছুটা কমে এসেছে। এ কারণে দাম একটু একটু করে বাড়ছে। রোজায় বাড়তি চাহিদার কারণেই অধিকাংশ ফলে দাম বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

শরবত তৈরি উপযোগী বেলের দামও দ্বিগুণ বেড়েছে। বাজারে প্রতিটি ছোট আকারের বেল এখন ৫০ টাকা, মাঝারি ৮০ টাকা আর বড় ও দেখতে হƒষ্টপুষ্ট বেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়।

কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাইকারি বাজারেও বেলের দাম বাড়তির দিকে। গত ৪/৫ দিনে দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। অতি ছোট আকারের আনারসও প্রতিটি ৪০ টাকার নিচে মিলছে না, যা সাধারণ সময়ে ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে থাকে। আকারে বড়গুলোর দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

রোজার মৌসুমে দেশি ফলের দাম বেড়ে যাওয়াকে বিশেষ সমস্যা মনে করছেন না কারওয়ান বাজারের অনেক ক্রেতা। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মোসুমি এসব ফলের দাম বেড়ে যাওয়াটা অনেকটা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন তারা। ফলের দাম বাড়লে আর কী করা যাবে। সবাই যখন ফল খেতে চায় তখন দাম তো একটু বাড়তেই পারে, মন্তব্য মাঝবয়সী এক ক্রেতার, যিনি নাম জানাতে চাননি।

আমদানি ফলের মধ্যে এই সপ্তাহে সবুজ আপেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা, লাল আপেল ১৮০ টাকা। গত এক সপ্তাহের চেয়ে দাম বেড়েছে কেজিতে অন্তত ৩০ টাকা।

প্রতি কেজি নাসপাতি ও আঙ্গুর ২৫০ টাকা, আতাফল ১৮০, পেঁপে ১০০ থেকে ১২০ এবং বাঙ্গি ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ইফতারিতে বেশি ব্যবহার করা হয় এমন পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি খোলা চিনি ৬৮ এবং প্যাকেট ৭৪ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে শুক্রবার। রোজা শুরুর আগেই এক দফায় চিনির দাম বেড়েছিল। খোলা সয়াবিন তেলের দাম অবশ্য কেজিতে দুই টাকা কমে ১৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ টাকা, মসুর ডাল বড় দানা ৭০ এবং ছোট দানা ১০০ টাকা, খেসারি ডাল ৮০ টাকা। কারওয়ান বাজারে খেজুর বিক্রেতা মোহাম্মদ জানান, এবার খেজুরের দাম বাড়েনি বললেই চলে। রোজা শুরুর আগে যেমন ছিল, এখন তেমনই আছে। এবার সরবরাহ বেশ ভালো। ‘মাবরুম প্রতি কেজি ৮০০, মেটজুল ৮০০ থেকে ১০০০, আজোয়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। সাধারণ মানের দাবাস ২২০ টাকা’ বলে জানালেন তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..