Print Date & Time : 7 March 2021 Sunday 1:06 am

ইবিতে স্বাক্ষর বিড়ম্বনায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: December 5, 2020 সময়- 09:37 pm

অনি আতিকুর রহমান, ইবি: করোনা মহামারির কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনে গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ চিত্র অনেকটা ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদভুক্ত আল-ফিক্হ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগে। সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনের জন্য প্রতিনিয়তই স্বাক্ষর নিতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত স্বাক্ষর জটিলতায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে ক্যাম্পাসে এসে শুধু বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষর না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, স্নাতক (এলএলবি) শেষে প্রায় সবারই ‘ইন্টিমেশন’ জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। ফলে সার্টিফিকেট, নম্বরপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া এসব কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তোলনের সুযোগ নেই। তবে সভাপতির অনুপস্থিতিতে বিভাগের অন্য শিক্ষকরাও স্বাক্ষর করতে পারেন বলে জানান তারা। কিন্তু বিভাগের শিক্ষকরা স্বাক্ষর দিতে রাজি হচ্ছেন না।

এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি অতি প্রয়োজনীয় কাজে সার্টিফিকেট তুলতে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। ডিপার্টমেন্টে অনেক ঘোরাঘুরি করেও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে সার্টিফিকেট ছাড়াই বাড়িতে ফিরে এসেছি।’

ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিনদিন ধরে কয়েকজন শিক্ষকের কাছে স্বাক্ষরের জন্য ঘুরছি। কিন্তু কেউই স্বাক্ষর দিচ্ছেন না। জুনিয়র শিক্ষকরা বলছেন, সিনিয়রদের কাছে যেতে। আর সিনিয়ররা বলছেন, তারা দায়িত্ব বুঝে পাননি তাই স্বাক্ষর দিতে পারবেন না। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না।’

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমি বিভাগের জুনিয়র শিক্ষক। সিনিয়ররা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের আরেক শিক্ষক বলেন, ‘সভাপতি দীর্ঘদিন স্টেশনের বাইরে থাকলেও কাউকে লিখিত অনুমতির মাধ্যমে দায়িত্ব দিয়ে যাননি। মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে তো স্বাক্ষর করা সম্ভব নয়।’

এ অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব বলেন, ‘একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনিয়রিটির ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের কথা। তারা কেন স্বাক্ষর করছেন না; তা আমি ঠিক জানি না।’ আসলে এটা কি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নাকি শিক্ষকদের সমস্যা? এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।