প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ইবি শিক্ষক ও চিকিৎসকসহ পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

প্রতিনিধি,কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় ইবি শিক্ষক ও চিকিৎসকসহ পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত প্রথম আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এবং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় পৃথক দুটি মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর গ্রামের বাসিন্দা মজিবর রহমান ব্যাপারীর ছেলে আজিজুল ইসলাম (২৫), আব্দুর রহমান ওরফে কালা কাজীর ছেলে সাইজুদ্দিন কাজী (৩০), কবুরহাট দোস্তপাড়ার আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে জয়নাল সরদার (৩৮) এবং খাজানগর মাদরাসাপাড়ার আজিজুল হক খানের ছেলে সাইফুল ইসলাম খান (৩০)।

অপরদিকে কুমারখালী থানার ব্যবসায়ী রিয়াজুল হত্যা মামলায় উপজেলার বাড়াদি গ্রামের মৃত. আইনুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে সিফাত বিশ্বাস (৫০) এবং মৃত. জয়েন বিশ্বাসের ছেলে ওয়াসিম আলি(৩৭)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মে সকাল পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার মৃত. বজলুর রহমানের ছেলে হোমিও চিকিৎসক মীর সানাউর রহমান (৫৭) তার সহযোগী কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাইফুজ্জামানসহ নিজ দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র বটতৈল শিশির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। আসামিরা ধারালো চাপাতিসহ রড ও লাঠিসোটা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা টের পেলে গুরুতর রক্তাক্ত আবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মীর সানাউর রহমানকে মৃত ঘোষণা করে।
গুরুতর আহত ইবি শিক্ষক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। এঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মীর আনিসুর রহমান বাদি হয়ে ২১ মে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অপরদিকে, ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে কুমারখালী উপজেলার বাড়াদি গ্রামে ব্যবসায়ী বিয়াজুল (৫৫) উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলায় ও ধারালো চাকুর আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৪ এপ্রিল কুমারখালী থানায় ৯ জনের নামোল্লেখসহ হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে কুমারখালী থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক দীলিপ কুমার বিশ্বাস ২০১৭ সালে ১০ সেপ্টেম্বর
আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ দাখিল করেন আদালতে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ী রিয়াজুল হত্যা মামলায় সাক্ষ্য শুনানি শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাবাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের কৌঁশলি (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হোমিও ডাক্তার সানাউর রহমান হত্যা মামলায় পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে দীর্ঘ সাক্ষ্য শুনানি শেষে ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডসহ প্রত্যেকের পৃথক ভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডাদেশ অনাদায়ে আরও ১ বছরের সাজা দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।