বিশ্ব সংবাদ

ইমরান খানের পদত্যাগ দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির বিরোধী দলগুলোর একটি জোট বিক্ষোভ শুরু করেছে। গত শুক্রবার পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা স্টেডিয়ামের সমাবেশ থেকে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের ডাক দেওয়া হয়। বিরোধীদের দাবি, ২০১৮ সালে কারচুপির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইমরানকে ক্ষমতায় বসিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। খবর: দ্য গার্ডিয়ান।

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সমাবেশের ডাক দেয় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও জমিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম। এ সমাবেশে সেনাবাহিনীর মদতে ইমরান ক্ষমতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়। ৯টি বিরোধী দল নিয়ে একটি জোট গঠন করেছেন নওয়াজ শরিফ। জোটের নাম দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম)।

বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ, অন্যায়ভাবে ইমরান খানকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জিতিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তারপর থেকে সেনাবাহিনীর কথা শুনেই চলছেন ইমরান খান। এ সময় ইমরান খানকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও সেনাবাহিনীর ‘চাকর’ বলে অভিহিত করেন নওয়াজ শরিফ। লাহোরের কাছে গুজরানওয়ালা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিরোধীদের সমাবেশে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমেছি। আমাদের লড়াই অবিচার, বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে।

সমাবেশে একই অভিযোগ এনে মরিয়ম নওয়াজ বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। চলমান অবিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।

তবে এ আন্দোলন নিয়ে ইমরান খান মোটও চিন্তিত নন। তার বক্তব্য, ‘আমার জয় নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে দেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে, সেনাবাহিনী নয়। তাই বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে আমি ভীত নই। আসলে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্র্নীতির মামলা রয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহারের জন্যই আমার ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।’

নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) দেশটির প্রধান বিরোধী দল। ২০১৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গত নভেম্বরে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..